জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় র্যাব সদস্যের স্ত্রী লিপি বেগম (৩৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জনসাধারণ।হত্যার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১২ টায় সরিষাবাড়ী গণময়দান মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শিমলা বাজার শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দিগপাইত–তারাকান্দি প্রধান সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি করে।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে সরিষাবাড়ী থানায় জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন।একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন—আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
নিহত লিপি বেগম সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মনজুরুল হক (মঞ্জু মিয়া)-এর একমাত্র কন্যা এবং র্যাব সদস্য মোঃ মহর উদ্দিনের স্ত্রী।
মানববন্ধনে নিহতের শোকার্ত ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বিচার দাবি করেন।এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়—কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে নিহত লিপি আক্তারের মা কল্পনা বেগম ও বাবা মঞ্জুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে যারা অন্যায়ভাবে কেড়ে নিয়েছে, তাদের ফাঁসি না দেখা পর্যন্ত আমরা শান্ত হবো না।একজন র্যাব সদস্যের স্ত্রী যদি ভাড়া বাসায় নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা কোনো আশ্বাস নয়,আমাদের মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নিহতের বোন মিম ও সালেমা খাতুন, ভাবী মোমনা এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সাইফুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না।পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানায়।খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় নিহত লিপি আক্তারের শিশু সন্তান বলেন, আমরা মা’র হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার,মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন,অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। থানায় অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন,“ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এলাকাবাসী স্পষ্ট করে জানান—আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।