সারাদেশে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ নাজমা আশরাফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন, ডা. নূয়েন খীসা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোসাইন, পিপিএম। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন।সভায় নৌযান শুমারি-২০২৬ এর উদ্দেশ্য, আওতাভুক্ত ও আওতাবহির্ভূত নৌযানের সংজ্ঞা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, গণসচেতনতা কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল, নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, বিল, জলাশয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ছোট-বড় যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান এবং ডাম্ব বার্জসহ নির্ধারিত নৌযান এ শুমারির আওতায় থাকবে। তবে সাধারণ বৈঠাচালিত নৌকা এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত বিদেশি মালিকানাধীন নৌযান এ শুমারির আওতাবহির্ভূত থাকবে।শুমারির প্রচারে টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, মোবাইল এসএমএস এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শুমারির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলায় ইতোমধ্যে কুইক কাউন্ট অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। এতে জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৪২২টি ঘাট এবং ৪ হাজার ২৯৬টি নৌযান চিহ্নিত করা হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৌযান শনাক্ত হয়েছে বরকল উপজেলায় ১ হাজার ২৩৩টি। এছাড়া লংগদুতে ১ হাজার ৯১টি, রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৬৫৭টি, কাপ্তাইয়ে ৪৫০টি এবং বিলাইছড়িতে ২৭১টি নৌযান শনাক্ত হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, পরবর্তী ধাপে লিস্টিং অপারেশন পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুপারভাইজার ও লিস্টার নিয়োগ করা হবে। মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণির ইঞ্জিনচালিত, যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী, কার্গো, ট্রলার, ফেরিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের একটি হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করা হবে।বক্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন খাতের কার্যকর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সঠিক নীতিনির্ধারণে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নৌযান শুমারি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নৌযান মালিক ও অংশীজনদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।