কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের গয়ারী গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত সাংবাদিক জিয়াউর রহমান (জিয়া)-এর মেয়ে জিসা আক্তার জিনিয়া (১৭) দীর্ঘদিন ধরে জটিল কিডনি রোগে ভুগছেন।
প্রায় নয় বছর ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর সম্প্রতি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জিসার চিকিৎসা চলছে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, তার জীবন রক্ষায় দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট) ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।
মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত হয়েছেন তার মা নুরী বেগম। প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উপযুক্ত প্রমাণিত হলে তিনি কিডনি দান করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে কিডনি প্রতিস্থাপন, অপারেশন এবং পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা জোগাড় করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নুরী বেগম বলেন, “আমরা খুবই অসহায়। অন্যের ভিটায় বসবাস করি। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছি। মেয়ের চিকিৎসার পেছনে যা কিছু ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। একজন মা হিসেবে আমি আমার মেয়েকে হারাতে চাই না। তাই নিজের একটি কিডনি দিতে রাজি আছি। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। এরপরও ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় রয়েছে। এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের নেই।”
তিনি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি মেয়ের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা জানান, জিসা একজন মেধাবী ও স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী। দুরারোগ্য এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ওই এলাকার ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ আক্তার দুলু বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। দুই সন্তানের মধ্যে জিসা সবার ছোট। দুটি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় সে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে সে আবারও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে। মেয়েটিকে বাঁচাতে তার মা নিজেই কিডনি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন রক্ষা পেতে পারে।”
জিসার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা তার মা নুরী বেগমের নামে ইসলামী ব্যাংক হিসাব নম্বর: ২০৫০১৯৫০২০২৯৬৪৪০৯-এ আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ নম্বর: ০১৯১৭-৭৭০৩৭৫-এও সহায়তা প্রদান করা যাবে।
পরিবারটি জিসার সুস্থতার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে।