1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
মেধাবী ছাত্র থেকে চুয়েটের উপাচার্য, পটিয়ার গর্ব ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ঈশ্বরদীতে ডিবি পরিচয়ে সোয়া ৪ লাখ টাকা ছিনতাই: মূল হোতা গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: বিরলে এমপি পিনাক চৌধুরী কাজিরহাট থানায় ব্যাংকের হাট ব্রিজটা বেহাল দশা। জনদুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানে এলজিডি কুড়িগ্রাম সৌদিতে নিহত দুই ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার পর পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: বিরলে এমপি পিনাক চৌধুরী শিলের আঘাতে গৃহবধূকে হত্যা, পলাতক স্বামী কোম্পানীগঞ্জে লামা ডিস্কি বাড়ি–ফেদারগাঁও সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ রাজশাহীতে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ সরঞ্জাম উদ্ধার দৈনিক ঘোষণা’র ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিনিধি সম্মেলন ১২ আগস্ট।

মেধাবী ছাত্র থেকে চুয়েটের উপাচার্য, পটিয়ার গর্ব ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম

reporter ইব্রাহীম চৌধুরী
calendar প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

স্বপ্ন, মেধা, পরিশ্রম আর দেশপ্রেম এই চারটি শব্দ যেন এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে পটিয়ার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পটিয়ার ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ তিনি হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর নতুন উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর)। তাঁর এই অর্জনে আনন্দ আর গর্বে ভাসছে পুরো পটিয়া। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার (২৭ জুলাই) তাঁকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জংগলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. সায়েম। তাঁর বাবা মরহুম হাজী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক উপ কর কর্মকর্তা এবং মা হাজী চেমন আরা বেগম। চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকেই স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ২০০৫ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। প্রায় ২২ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসক হিসেবে। বর্তমানে তিনি চুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকৌশল সংগঠনের ফেলো ও সদস্য হিসেবেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। গবেষণার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন, ডি-কার্বনাইজেশন, ক্লিন এনার্জি, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, বায়োফুয়েল, শক্তি রূপান্তর ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁর গবেষণা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বহু জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ। তাঁর তত্ত্বাবধানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএইচডি শেষে অস্ট্রেলিয়ার একটি খ্যাতনামা মাইনিং প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছেড়ে দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি ফিরে আসেন নিজের মাতৃভূমিতে, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে, নিজের শিক্ষার্থীদের কাছে। নিয়োগের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, “বিদেশে থেকে হয়তো ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমার অর্জন যদি শিক্ষার্থীদের কাজে না লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছে তার জন্য যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে সেই অর্জনের মূল্য খুব বেশি নয়। আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চেয়েছি। এখন উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়ে চুয়েটকে একটি বিশ্বমানের, গবেষণাভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চাই। এজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ চুয়েট পরিবারের সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।” এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো পটিয়ার গর্ব। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে চুয়েট শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com