রাজনীতির পথ কখনো ফুলে বিছানো থাকে না। কখনো সেই পথে থাকে মানুষের ভালোবাসা, সাফল্যের উচ্ছ্বাস ও বিজয়ের আনন্দ; আবার কখনো সেই পথই হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ, অন্ধকার আর নিঃসঙ্গ। ক্ষমতার আলো থেকে দূরে, প্রতিকূলতার উত্তাল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে মানুষ দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে টিকে থাকেন—তাঁর গল্প কেবল রাজনীতির গল্প নয়, হয়ে ওঠে সংগ্রামের গল্প।আলহাজ্ব ভি.পি. জহিরুল হক জহিরের রাজনৈতিক জীবনও যেন তেমনই এক দীর্ঘ সংগ্রামের উপাখ্যান।
মামলা, কারাবরণ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ—সবকিছুর ক্ষত বুকে নিয়েও তিনি থেমে যাননি। বারবার প্রতিকূলতা তাঁকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি আবার মানুষের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষায়, দুঃসময় তাঁকে দুর্বল করেনি; বরং আরও দৃঢ় করেছে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পাতায় হয়তো আনন্দের দিন আছে, সাফল্যের স্মৃতিও আছে। কিন্তু দুঃসময়ের অধ্যায়গুলোই যেন সবচেয়ে বেশি গভীর। কারণ একজন রাজনীতিকের প্রকৃত পরীক্ষা যে সুসময়ে নয়, বরং দুঃসময়ে—এই বিশ্বাসই তাঁর অনুসারীরা বারবার তুলে ধরেন।কারাগারের অন্ধকারে কেটেছে কঠিন সময় রাজনীতির মাঠে মানুষের পাশে থাকা একজন কর্মীকে যখন কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে দিন কাটাতে হয়, তখন শুধু একজন মানুষের স্বাধীনতাই সীমাবদ্ধ হয় না—অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে একটি পরিবার, উৎকণ্ঠায় থাকে স্বজনেরা, আর উদ্বেগে দিন কাটান রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
জহিরুল হক জহিরের রাজনৈতিক জীবনেরও এমন কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।
তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে একাধিক মামলায় জড়ানো, গ্রেপ্তার, কারাবরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
তাঁর অনুসারীরা আরও দাবি করেন, সে সময়কার কিছু ভিডিওচিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ভিডিওর প্রেক্ষাপট ও সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অভিযোগ ও দাবির হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
তবুও তাঁর অনুসারীদের কাছে সেই সময়ের স্মৃতি আজও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক।বাড়িতে উৎকণ্ঠা, আর রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার প্রত্যয়
একজন রাজনীতিক কারাগারে থাকলে শুধু তাঁর নিজের জীবন থেমে থাকে না। থমকে যায় পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও।বাড়ির দরজায় অপেক্ষা—কখন প্রিয় মানুষটি ফিরে আসবেন। কখন মামলা থেকে মুক্তি পাবেন। কখন আবার পরিচিত মুখটি ঘরে ফিরবে।
এই উৎকণ্ঠার দিনগুলো পরিবারের জন্য যেমন কঠিন, তেমনি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্যও তা এক গভীর মানসিক পরীক্ষা।
সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, সেই ব্যক্তিগত কষ্টকে পেছনে রেখে জহিরুল হক জহির বারবার ফিরে এসেছেন রাজনৈতিক মাঠে। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে সক্রিয় থেকেছেন।কারাগারের দরজা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি; প্রতিকূলতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানতে পারেনি।দুঃসময় তাঁকে ভাঙেনি, বরং করেছে আরও দৃঢ়
রাজনীতিতে প্রতিকূলতা নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিকূলতার সময় কে পাশে থাকেন আর কে দূরে সরে যান—সেখানেই তৈরি হয় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকৃত পার্থক্য।
অনেকেই কঠিন সময়ে রাজনীতি থেকে সরে যান। কেউ হারিয়ে যান, কেউ নীরবে দূরে চলে যান। কিন্তু জহিরুল হক জহিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার মূল্যায়ন করতে গিয়ে তাঁর অনুসারীরা বলেন—তিনি বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।মামলা তাঁকে থামাতে পারেনি।কারাবাস তাঁকে থামাতে পারেনি।প্রতিকূলতা তাঁকে থামাতে পারেনি।বরং প্রতিটি আঘাতের পর তিনি নতুন করে মানুষের কাছে ফিরেছেন।তাঁদের মতে, এটাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।৫ আগস্টের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতা,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতিকূলতার পর গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক অধিকার ও মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়।
পরিবর্তিত সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতেও।পুরোনো হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি সামনে আসে নতুন নেতৃত্ব, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিনের মাঠের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয় নতুন আলোচনা।আর সেই আলোচনায় নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে আলহাজ্ব ভি.পি. জহিরুল হক জহিরের নাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে ঐক্যের প্রশ্নে জহির,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা মত, পথ ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ থাকলেও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।জহিরুল হক জহিরের অনুসারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পক্ষে কাজ করে আসছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আগামী দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নেতার পরিচয় কি শুধু পদ-পদবিতে?রাজনীতিতে পদ-পদবি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় কি শুধু তাঁর পদে?
নাকি মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার মধ্যে?নাকি মামলা-মোকদ্দমার ভয়েও রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটুট থাকার মধ্যে?নাকি কারাগারের অন্ধকার পেরিয়ে আবারও মানুষের কাছে ফিরে আসার সাহসের মধ্যে?জহিরুল হক জহিরের অনুসারীরা তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বারবার ফিরে যান এসব প্রশ্নের কাছে।তাঁদের ভাষায়, ক্ষমতার সুসময় একজন নেতাকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে, কিন্তু দুঃসময়ই একজন নেতার প্রকৃত চরিত্রকে মানুষের সামনে তুলে ধরে।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জহিরের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় হয়তো কোনো পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনী ফলাফল নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেকে উৎসর্গ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নিবেদিত প্রাণ হিসেবে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানুষ অপেক্ষা করছেন কিভাবে মূল্যায়ন করা হয় এ ভর্শীয়ান রাজনীতিবিদ ভিপি জহিরুল ইসলাম জহিরকে