কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় গত ১ জুন সোমবার, স্থানীয় জনগন ৪জন মাদকসেবি যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন, ওয়াসীম এবং ফেলনা গ্রামের মুসাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার একদিন পর ২ জুন মঙ্গলবার দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী পৌর সদরের শ্রীপুর গ্রামের বাবু জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ ৭জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। হামলায় জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন আহত হন। আহতরা সকলে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককেন্দ্রিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যাত্রাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। গত ১ জুন এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাত্রাপুর এলাকায় মাদকসেবনরত অবস্থায় ৪ জনকে আটক করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার পরদিন ২ জুন মঙ্গলবার আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তি এলাকার মাদক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ।
কিন্তু পরদিন ২ জুন মঙ্গলবার আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসে বাদী আবুল বাশার এবং মামলার সাক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন নামে ৭জন আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠ তদ্তে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।