ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা, বরইতলা, বারিধারা জে ব্লক, খিলবাড়িরটেকসহ একাধিক এলাকায় মাদকের প্রকাশ্য বিক্রি থামছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান চললেও নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও ফেন্সিডিল হাতবদল হচ্ছে দিবালোকে। এতে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ যুবসমাজ আসক্ত হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনের চিত্র ও অভিযোগ
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নূরেরচালা বাজার, বোডগার্ড এলাকা, বরইতলা বাজার, বি ব্লক বালুর মাঠ, খানখোদা রোড, ফাশেরটেক বালুর মাঠ, বারিধারা জে ব্লক, ঢালীবাড়ি মোড়, পোড়াবাড়ি গলিসহ অন্তত ১৫টি স্পটে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাই পর্যন্ত করছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। স্কুলের সামনেই ছেলেরা ইয়াবা কেনাবেচা করে।”
অভিযোগকারীদের দাবি, নূরেরচালা বাজার এলাকায় রাজু ওরফে কসাই রাজু, নূরেরচালা বোডগার্ডে গালকাটা রুবেল, বরইতলা বাজারে গাজী পারভেজ ও তার স্ত্রী, বি ব্লক বালুর মাঠে মাককুল ও তার স্ত্রী, খানখোদা রোডে পারভেজ, ফাশেরটেক বালুর মাঠে মেরীও রাজু, বারিধারা জে ব্লকে খোরশেদা, নূরেরচালা বাজার গলিতে চুঁচু জাকির ও মোশা, ঢালীবাড়ি মোড়ে ভাঙারির বোন ছোলমাত, নূরেরচালা বোডগার্ডে বাতেনের স্ত্রী কোহিনুর, ঢালীবাড়ি কাঁচাবাজার রোডে খালেকের স্ত্রী, খিলবাড়িরটেক বাজারে আয়নাল, পোড়াবাড়ি গলিতে মিনু এবং বারিধারা জে ব্লকে লিলি নামে কয়েকজন ব্যক্তি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা থাকলেও প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধ হয়নি। তবে এসব মামলার নম্বর, আদালত ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এ প্রতিবেদকের কাছে সুনির্দিষ্ট নথি ছিল না।
যুবসমাজ ও অপরাধ বৃদ্ধির শঙ্কা স্থানীয়দের ভাষ্য, নেশার সহজলভ্যতার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে। রাত ৮টার পর নারী-শিশুদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত তরুণরা পরিবারে অশান্তি তৈরি করছে। “আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে”— উদ্বেগ জানান এক স্কুল শিক্ষকের স্ত্রী।
পুলিশের বক্তব্য ও প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাজাহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানা সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পেলে অভিযান জোরদার করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর DNC-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯৮৭০৪৯৪৯ হটলাইনে তথ্য দিলে অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান নয়, স্থায়ী মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি প্রয়োজন। স্কুল-কলেজের ২০০ গজের মধ্যে মাদক বিক্রি কঠোরভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।