শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ উৎপন্ন এবং অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে দুটি পরিবহনকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে চারটি হাইড্রোলিক হর্ন, যা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাই ২০২৬ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শব্দদূষণবিরোধী বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে বিভিন্ন যানবাহনের শব্দের মাত্রা পরীক্ষা করা হয় এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হয়।অভিযানকালে অনুমোদিত মাত্রার অধিক শব্দ উৎপন্ন এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের অভিযোগে দুটি পরিবহনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় মোট ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ধার্য করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এছাড়া অভিযানে জব্দ করা ৪টি অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন জনসম্মুখেই বিনষ্ট করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।
শুধু আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় প্রায় ১০টি বাস, ট্রাক ও অটোরিকশায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বিষয়ক স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং অতিরিক্ত শব্দের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করেন।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার। প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান। অভিযানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের বিকট শব্দ পথচারী, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এ ধরনের অবৈধ হর্ন ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।