সিলেটের বিশ্বনাথের পল্লীতে রাস্তা পাকা করণ নিয়ে গ্রামবাসীর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘন্টার এই সংঘর্ষের সময় কক টেল বিস্ফােরন, বাড়ি-ঘরে হা ম লা, ভাংচুর ও লুট পাটে র অভিযােগও রয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সােমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ভল্লবপুর গ্রামে। এ ঘটনায় গতকাল দিনভর দু’পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে বিশ্বনাথ উপজেলা সহ এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের নিয়ে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানাগেছে, প্রায় ৩০/৩৫ বছরের পুরাতন একটি মাটির রাস্তার কিছু অংশ সম্প্রতি গ্রামের কিছু প্রবাসীদের উদ্যােগে আরসিসি ঢালাইর কাজ সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে এই রাস্তার অন্যতম অংশীদার প্রবাসী সাইদ আলী (৭২) এর পক্ষে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এক পক্ষের অভিযোগ সোমবার ভোররাতে বাহিরের ভাড়াটিয়া লোক এনে প্রবাসী সাইদ আলীর পক্ষের লোকজন পাকা রাস্তা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেন। এসময় অপর পক্ষ বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । সংঘর্ষের সময় কয়েকটি কক টেল ও বিস্ফােরন ঘঠে। এসময় নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাঠকেল নিক্ষেপের পর যখন সংঘর্ষটি ভয়াব রুপ ধারণ করতে যাচ্ছিল ততক্ষণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িতে বাড়িতে ভাংচুর, একটি হালচাষের ট্রাক্টর, একটি পানির মেশিন ও একটি মোটরসাইকল পুড়া নো হয়। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান , এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ কোন অভিযোগ দায়ের করেননি, লিখিত অভিযােগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।