কক্সবাজারের চকরিয়ার স্বনামধন্য বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া জমজম হাসপাতাল তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিল সংক্রান্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
লিখিত বক্তব্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে তুলনামূলক কম খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভিজিট ফি ৫০০ টাকা হলেও পরবর্তী ভিজিট মাত্র ২০০ টাকায় প্রদান করা হয়। এছাড়া আরবিএস পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা এবং ভর্তি রোগীদের জন্য ডাক্তারি ফিও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত তিন দিন বয়সী এক নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ২ আগস্ট ২০২৬ তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, রোগী চার দিন হাসপাতালে অবস্থান করলেও অভিভাবকের অনুরোধ বিবেচনা করে চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনের বিল করা হয়। মোট বিল ছিল ৮ হাজার ৫০ টাকা। সেখান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা ছাড় দিয়ে ৬ হাজার ৭০০ টাকা গ্রহণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ দাবি করে, রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা, চিকিৎসক বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসা বা সেবার মান নিয়েও রোগীর স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, একটি মহল হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিলের কাগজ বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। বিশেষ করে ২১০০ টাকার সার্ভিস চার্জ ও ২১০০ টাকার ডাক্তার ফি দেখিয়ে ভুয়া বিল তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতি শুক্রবার এ হাসপাতালে ২০ জনেরও বেশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে যেখানে কেবিন ভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি, সেখানে পিপলস কেয়ার হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসা, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার, আধুনিক ল্যাবসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।