বরগুনা জেলা শহরসহ উপজেলাগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। লাইসেন্স ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যত্রতত্র চলছে এসব যানবাহন। আর এসব অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ। ফলে জেলাজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বরগুনা শহর ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশার সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬,৩৪৫টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। নিয়মনীতি না থাকায় যে যার মতো অটোরিকশা নামাচ্ছেন সড়কে। এসব অটোরিকশা দিনে চলাচল করলেও রাতে অবৈধভাবে আবাসিক লাইন থেকে চার্জ দেওয়া হয়। একটি অটোরিকশা চার্জ দিতে ৮ থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৫.৮ থেকে ৭.১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২.৫ থেকে ৩.৯ মেগাওয়াট।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকা ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। বিশেষ করে সোনাখালী, ঢলুয়া, গৌরীচন্না, বাঁশবুনিয়া ও কালিরতবক এলাকায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, “দিনে ৫-৬ বার বিদ্যুৎ যায়। রাতে তো আরও বেশি। গরমে বাচ্চাদের নিয়ে থাকা যাচ্ছে না।
সোনাখালীর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “অতিরিক্ত ব্যাটারি চালিত গাড়ির চার্জিং গ্যারেজ থাকায় আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাঁশবুনিয়ার বাসিন্দা জলিল বলেন, ব্যাটারি চালিত রিকশার কারণে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। বাচ্চাদের নিয়ে রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়। অটোরিকশা এখন একটি ক্যান্সারের রূপ নিয়েছে এটি এখনই লাগাম টানতে না পারলে পরবর্তীতে দুর্ভিক্ষের মহামারি রুপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম বলেন, অবৈধ অটোরিকশা চার্জের কারণে লোড বেড়েছে এটা সত্য। আমরা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান পরিচালনা করছি।এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান, নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং অবৈধ চার্জিং গ্যারেজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।