ফের বিতর্কের মুখে খুলনা ওয়াসার আলোচিত পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ- ২ এর প্রকল্প পরিচালকের ( পিডি) অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে ফিরোজ শাহকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল ৯ আগষ্ট স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন ক্যাডারের এই যুগ্ম সচিব ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২৯ জুলাই তাকে প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় মন্ত্রণালয়। বিশেষায়িত প্রকৌশল জ্ঞান সমৃদ্ধ একটি প্রকল্পের দায়িত্ব প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের গোচরে আসে। ওয়াসা থেকে জানাগেছে, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির( একনেক) সভায় অনুমোদন হয় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ- ২। বিশাল ব্যয়ের এই প্রকল্পের পিডি কে হবেন – এনিয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাপ। শুরুতেই প্রকল্প তদারকির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন। প্রথম প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং অভিজ্ঞ হওয়ায় তাকে প্রকল্পের ফোকালপার্সন নিয়োগ করা হয়। কিন্তু গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে মব তৈরি করেন এনসিপির নেতারা। তারা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে প্রকল্পের দায়িত্ব দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির এক নেতাও রেজাউলের পক্ষে জোরালো তদবির করেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর রেজাউল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর নলকুপ স্থাপন এবং আটরা রিজার্ভার নির্মানে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি ছিলেন, ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। এধরণের কাজের অভিজ্ঞতা তার ছিল না। মুলত মন্ত্রণালয়ে ঘুষ এনসিপি ও বিএনপির এক জনপ্রতিনিধির সুপারিশে তিনি নিয়োগ পান। এনিয়ে ওয়াসার ভেতরে – বাহিরে ক্ষোভ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর প্রকল্পটির পরিচালক হতে তৎপরতা চালান বিএনপি সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনির্সের ( অ্যাব) নেতারা। এর মধ্যে গত ২৪ মে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন যুগ্ম সচিব ফিরোজ শাহ। গত ২৮ জুন অ্যাব খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে খুলনা ওয়াসার উপ- ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ( ডিএমডি) পদে প্রেষনে নিয়োগ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের চিঠি নিয়ে আসেন ফিরোজ শাহ। গণমাধ্যমে এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় সেই চিঠিও অবশেষে বাতিল হলো।