কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বরেণ্য আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবকবৃন্দ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-কর্মচারীসহ বর্তমান সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকলের উপস্থিতিতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলটি এক ভাবগম্ভীর ও ধর্মীয় পরিবেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ মনজুরুল ইসলাম বকশী। মোনাজাতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতাসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে অসুস্থ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
এছাড়াও দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয় এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়। মোনাজাতে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ন্যায়নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দানের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি সমাজে ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবেদ আলী খন্দকার বলেন,প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এ ধরনের দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও অতিথিরা বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, নিয়মিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শিক্ষার্থীদের আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় চেতনা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ে এ ধরনের মহতী ও কল্যাণকর আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।