যোদ্ধারা যুদ্ধ করবে-ত্যাগীরা ত্যাগ স্বীকার করবে-ভোগীরা সব আমলেই ভোগ করবে-বাংলাদেশ কি এভাবেই চলবে? জাতি কি দুঃশাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে আজীবন যুদ্ধই করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিকতার সাথেই সবার আগে বাংলাদেশকে দেখতে চান এবং অনগ্রসর মানুষদেরকে অগ্রসরের পথে নিয়ে যেতে চান। কিন্ত সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীরা কি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে সহযোগীতা করবেন? শহীদ জিয়া-বেগম জিয়া মূল শক্তি মনে করতেন-বিশ্বাস করতেন দেশের সাধারণ মানুষ-ত্যাগী কর্মী-সমর্থক-অনুসারীদেরকে। সাধারণ মানুষদের স্বাভাবিক চাহিদা। সুতরাং গাদ্দারী-মীরজাফরী করার দরকার হয়না। যাদের সীমাহীন চাহিদা তারাই দলের সাথে-ত্যাগী কর্মী-জাতির সাথে গাদ্দারী-মীরজাফরী করে এবং সম্পদের পাহাড় গড়ে। এবার অন্য প্রসঙ্গে কথা।
১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুখে মহান স্বাধীনতার ঘোষনার কথা শুনে-জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তানিদের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের মানুষ ৯ মাসের মাথায় মহান স্বাধীনতা লাভ করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে জাতি ঘরে ফিরেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী ও মহান মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল-দেশ স্বাধীন হলে দেশে স্বদেশি সুশাসক সৃষ্টি হবে এবং দেশ-জাতি বৈষম্যহীন উন্নয়ন পাবেন-ন্যায় বিচার সকলের জন্য সমান হবে। বিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশ ৯ মাসের ভিতরে স্বাধীন হওয়া এক বিরল ইতিহাসের ঘটনার স্বাক্ষী৷ কিন্ত ইতিহাসের ফসল সমভাবে ভোগ করার সুযোগ সকলে আজও পেলোনা। স্ব-দেশি স্বৈরশাসক ও শোষক এরশাদের সাথে স্ব-জাতি ৯ বছর যুদ্ধ করে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে দেশকে উদ্ধার ও জাতিকে মুক্ত করেন। লক্ষ্য ছিল-দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলে জাতি গণতন্ত্র ফিরে পাবেন এবং বৈষম্যহীন উন্নয়নে সহায়তা পেয়ে জাতি উপকৃত হবেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সাংবাদিক-ছাত্র সমাজসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা যখন পরিপূর্ণরূপে সফলতা লাভ করতে পারতেছেন না তখন দল-মত-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক দফার দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নে স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে,আওয়ামী লীগ ব্যতীত-দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষ হাসিনা তাড়াও-দেশ ও জাতিকে বাঁচাও আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করেন। আবু সাঈদ-মুগ্ধসহ প্রমূখ ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময় আন্দোলন-সংগ্রাম নতুনভাবে শক্তিশালী হয়। এর বাহিরেও অনেক রিক্সা চালক-কুলি-দিনমজুর-বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী শাহাদতবরণ করাসহ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। যাদের সকলের নাম আলোচনায় বা শহীদের তালিকায় আসে নাই। যাইহোক-জাতি চেয়েছিলেন হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ হলে,জাতি বৈষম্যহীন উন্নয়ন পাবেন,নতুন সরকার বেছে-বেছে ত্যাগীদের-ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন,যথাযথ ব্যক্তিরা স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাবেন,ভালো মানুষের মূল্যায়ন হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে সংসারের গৃহিণী পর্যন্ত রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। জাতির চাহিদা অনুযায়ী ১৬ বছরের মাথায় ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং-তারিখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জাতির চাহিদা ও আশা পূরণ হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ইতিহাস সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ ব্যাতীত-পুরো জাতির অবদান রয়েছে। যাইহোক-হাসিনা পতনের ৩ দিনের মাথায় গঠিত হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে কিছু ছাত্র নেতারা স্থান পেয়েছিলেন। তারা সুযোগ পেয়েছে এবং সেই সুযোগে আখের গুছিয়ে নিয়েছে,আর দুঃসময়ের অঙ্গীকার ভুলে গিয়ে বিভিন্ন প্রকারের সুবিধা আদায়ের জন্য যত প্রকারের কর্মকাণ্ড আছে তা করেছে৷ তারা তাদের অঙ্গীকারের স্থানে অনড় থাকতে পারেন নাই। অনড় অবস্থানে থাকতে পারলে তারা হতো আগামী দিনের ইতিহাস। অনেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন উদ্দেশ্য নিয়ে আবার অনেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন জাতীয় স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে। উদ্দেশ্যবাজ-বয়ানবাজ ও স্বার্থ উদ্ধারকারীদের ভিতরে কিছু সাংবাদিক নেতা এবং সাংবাদিক আছে এবং আছে রাজনীতিবিদ ও পেশাদার দালাল। যারা ৫ আগস্টের পরে বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। যেই সাংবাদিককে পায়ে হেঁটে চলতে দেখেছি এবং নেতা বানিয়েছি তাকে দেখি কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। অনেকে নাটক করে গ্রেফতার এবং হিরো হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয়েছে। এরকম অনেক নাটকবাজ বিভিন্ন পেশার মাঝে রয়েছে এবং তাদের উন্নয়ন বিভিন্নভাবে হয়েছে। হাতে গোনা বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর কতিপয় সুবিধাবাদীদের কারণে জাতীয় স্বার্থ বিলিন হওয়ার পথে। সাধারণ মানুষের উন্নয়ন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বাহিরে নয়।
কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদীদের কারণে জাতীয় স্বার্থ বারবার হুমকির মুখে পড়ে। অনেকে ফেরেস্তা-পীর-আউলিয়া-ফকির-দরবেশ-হাজী সাহেব সেজে বয়ান করেছিল। তারা কে কেমন হাজী-পীর-ফকির- দরবেশ-সেগুলোর প্রমাণ জাতির কাছে আজ পরিষ্কার হয়েছে। সুযোগ পেয়েও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদ-আওয়ামী পন্থিসহ বিভিন্ন পন্থির জঙ্গলগুলো পরিষ্কার করতে পারেন নাই। আওয়ামী লীগের আমলের দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরদেরকে কাছা-কাছি রেখে এবং পাশে বসিয়ে ও উকিলের মত মক্কেল বানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্ব কোন-কোন উপদেষ্টা এবং ছাত্র নেতারা সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। ওরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে জাত ফকিরের পোলারা আমিরের খাতায় নাম লিখেয়েছে। ওদের সহযোগীতায় সেই জংলি ও সুবিধাবাদী মানুষগুলো প্রশাসনসহ রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা জানত ক্ষমতায় বিএনপি আসবে-তাই তারা বিএনপি পন্থী আমলা-সাংবাদিক-বিএনপি’র নেতাদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করেছে। আওয়ামী লীগের আমলা-
নেতা-কর্মী-দালালরা পকেট চিনে-যেই পকেট থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায় করে দিতে পারবে এবং নিজেরাও সুবিধা নিতে পারবে। ঐ চক্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব আমলেই বড় ধরনের সিন্ডিকেট সৃষ্টি এবং উন্নয়নের পাহাড় গড়েছে। তারা সম্পর্ক গড়ে তোলে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যক্তিগত লোকদের সাথে। তারা যাকে খুশি তাকে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী ও সচিবদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ করে দিয়ে সরাসরিভাবে সহায়তা আদায় করে দিয়ে থাকেন। যারা মাঠ পর্যায় থেকে জীবনকে ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছিলেন স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার আশায়। তারা ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যতার শিকার হয়েছেন এবং সুবিধাবাদীরা সুযোগ নিয়েছে। বিভিন্ন পেশার হাতে গোনা কিছু নেতা–দালালরা এ সুযোগ পেয়ে থাকেন,আর ত্যাগীদেরকে দূরে রাখেন। দলীয় এবং সরকার প্রধান মনে করেন দেশের কিছু এমপি-কিছু নেতা হাতে থাকলেই সবকিছু ঠিক থাকবে। এই বৈষম্যতার ফলে আসল ত্যাগী ও সাধারণ মানুষ সবসময় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ঘুরিয়ে দেওয়া। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ঘুরিয়ে না দেওয়ার ফলে ওরা সকল স্তর পাকাপোক্ত করে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়েছে। জাতি যে আশা করে হাসিনাকে তাড়িয়েছেন সে আশার ঘুরে বালু ঢুকেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন হলো এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি বিজয় লাভ করলো। সেই নির্বাচনে জাতির চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলো। ১৬ বছর যাবত বিএনপির যেই সকল কর্মী-অনুসারী সমর্থক ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল বিএনপির চেয়ারম্যান ও নেতারা বেছে-বেছে ত্যাগীদেরকে মূল্যায়নসহ স্বাভাবিক উন্নয়নে সহযোগীতা করবেন। অনুরূপ আশা ছিল সাধারণ সাংবাদিকদের যারা ১৬ বছর যাবত সাংবাদিক নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে-জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিতরে ও বাহিরে থেকে এবং খেয়ে না খেয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। সাধারণ সাংবাদিকদের আশা ছিল-বিএনপি সরকার গঠন করার পরে-সাংবাদিক নেতারা,সাধারণ সাংবাদিকদের তালিকা তৈয়র করবেন এবং প্রয়োজনীয় সাংবাদিকদেরকে সহায়তা করবেন। কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি বিষয় হচ্ছে হিসেবের কিছু সাংবাদিক নেতারা তাদের উন্নয়ন নিয়েই ব্যস্ত আছেন। অন্যদিকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা তেমন কোন অবদান রাখেন নাই। তারা এখন সেই নেতাদের ব্যক্তিগত লোক হিসেবে গণ্য এবং নেতারা তাদেরকেই দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রকারের সুযোগ-সুবিধা। এখনো কোথাও-কোথাও চলছে চরম বৈষম্যতা। কিছু সাংবাদিক নেতাও রয়েছে বৈষম্যবাদের পক্ষে এবং সরকারও তাদেরকে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। ভবিষ্যত আলামত খুব একটা ভালো দেখছিনা।
দেখুন-বিশ্ববাসী বাস্তবতা না জানলেও দেশবাসী অবগত আছেন যে,বিএনপি পন্থি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ২০১৪ সালে আওয়ামী পন্থী সাংবাদিকরা দখল করে নেয়। এরফলে বিএফইউজে এবং ডিইউজের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়। তারপরেও কর্মসূচি থেমে থাকে নাই এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের লবিতে বসে ও টেনিস গ্রাউন্ডের মাঠে ঘুরে-ফিরে কর্মসূচি ঠিকই পালন করা হয়েছে। কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একান্তভাবেই প্রয়োজন হলো ডিইউজের কার্যালয় উদ্ধার করা। কঠিন সেই দুঃসময় কার্যালয় উদ্ধার করার সাহস কেউ পেলোনা। কার্যালয় উদ্ধারের প্রস্তাব আমার কাছে দেওয়ার সাথে-সাথে-সাংবাদিকদের বসার ও কাজ করার স্বার্থে আমি প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেলাম এবং অনেক সাংবাদিকও এতে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কতিপয় সাংবাদিক নেতার কথা অনুযায়ী ঐতিহাসিক ২৬ মার্চ ২০১৫ সালে আমরা সাধারণ সাংবাদিক কার্যালয় উদ্ধার করে নেতাদেরকে বসে কাজ করার সুযোগ করে দিলাম। নেতারা তো কর্মীদের ত্যাগ স্বীকার করতে চায়না,কিন্ত তাই বলে তো কর্মীরা সত্যতা অস্বীকার করতে পারেন না। যাইহোক-কার্যালয় উদ্ধার করে বসার পরে আন্দোলন-সংগ্রাম আরো শক্তিশালী হলো এবং বিএফইউজে ও ডিইউজের নির্বাচন করার পরিবেশ সৃষ্টি হলো এবং সৃষ্টি হলো অনেক সাংবাদিক নেতা নির্বাচিত হওয়ার পথ। সাধারণ সাংবাদিকরা শুধুমাত্র কার্যালয় উদ্ধারের ক্ষেত্রেই অবদান রাখেন নাই৷ ৬ আগস্ট ২০২৪ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনেও অবদান রেখেছেন। স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয় ছিলেন তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠেই ছিলেন। অনেকে অংশগ্রহণ করেছেন নেতাকে চেহারা দেখানোর এবং ছবি তোলার জন্য। এক পর্যায় শুরু হলো জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য বানানোর কর্মসূচি। যারা সদস্য হওয়ার যোগ্য তারা অনেকে সদস্য হওয়ার সুযোগ পায় নাই এবং ছিল অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল। আমরা যেহেতু টাকার খেলায় এবং তেল মালিশ করার খেলায় জিততে পারলাম না,সেহেতু তখন আর সদস্য হওয়ার সুযোগও নিতে পারলাম না। ১৬ বছর বেকার থেকেও অনেকে মাঠে-ময়দানে থেকে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেছিলেন ভবিষ্যতে সরকার ও নেতাদের কাছ থেকে স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার আশায়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা থাকার পরেও অনেক ত্যাগীরা সদস্য হওয়ার ও সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সহায়তা পেলো না। সদস্য হতে পেয়েছেন তারা যারা নেতাকে খুশি করে চলতে ও তেল মালিশ করতে পেরেছেন। এই তরিকার সাংবাদিক তো আর সকলে হতে পারবেন না। যারা চাঁদাবাজি-ধান্দাবাজি-চাপাবাজি ও দালালি করতে না পারেন তারা বর্তমান সমাজে অযোগ্য। বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন ও ক্ষমতা গ্রহণ করার পর-দেশের সাধারণ সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার অসহায় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে সহায়তা চেয়ে আবেদন জানায়। তারা বিভিন্ন প্রকারের আবেদন জানিয়েছেন ন্যায় বিচার ও স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে। যারা ধান্দাবাজ-চাঁদাবাজি-দালালি-গোলামী ও তেল মালিশ করতে পারেন না-তাদের প্রয়োজন হয় ন্যায় পথে সহায়তা পাওয়ার। এদিকে মন্ত্রী ও এমপিদের ব্যক্তিগত লোক ছাড়া সহজে কেউ সহায়তাও পায়না। তাই অনেক ভূক্তভোগী বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন,যাদের ভিতরে আমিও একজন। আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস-মুজিবুর রহমান সরওয়ার-সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির পোশাক পরা কতিপয় সুবিধাবাদী ও মুনাফিকদের পিছনে থেকে দুঃসময় কাজ করে ধবংস হয়েছি। ওদের পিছনে কাজ না করলে ওদের ভিতরের রূপ ধরতে পারতাম না। ওরা আমার সাথে যেমন মীরজাফরী করেছেন-ওরাও মীরজাফরী করার ফল দুনিয়ার বুকে বিভিন্নভাবে ভোগ করতেছেন এবং আরো ফল ভোগ করবেন। মানুষের অভিশাপ ওদেরকে করবে না ক্ষমা এবং করবেনা মাফ। বিএনপি একটি ভালো দল এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান একজন দেশপ্রেমিক ভালো মানুষের অমর প্রতীক-বেগম জিয়া একজন ভালো নারী নেত্রীর প্রতীক। সুতরাং তাদের সন্তান অবশ্যই ভালো হবেন এবং ত্যাগীদেরকে সহযোগিতা করে উপকৃত করতে চাইবেন। তাই নানামুখি সমস্যার বিবরণ উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের আবেদন-প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ সিন্ডিকেটের সদস্যরা পৌঁছে দেয় না। প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছালে বাস্তবতার আলোকে তিনি অনেক কিছুই জানতেন এবং সহায়তাও করতেন। তাই সিন্ডিকেট সদস্যরা চায়না প্রধানমন্ত্রী বাস্তবতা জানুক। সিন্ডিকেটের সদস্যরা চায় প্রধানমন্ত্রীকে আঁধারে রাখতে। এই সুযোগে সিন্ডিকেটের সদস্যরা সুবিধা আদায় করে নিবে এবং অসুবিধায় ফেলে দিবে এবং স্বাভাবিক উন্নয়ন থেকে ত্যাগী মানুষদেরকে বঞ্চিত করবে। যোদ্ধারা মাঠে যুদ্ধ করবে-ত্যাগীরা ত্যাগ স্বীকার করবে-ভোগীরা সব আমলেই সুবিধা ভোগ করবে-এভাবেই কি বাংলাদেশ চলবে! সুবিধাবাদীরা-আওয়ামী লীগের-জামায়াতের কাছ থেকেও সুবিধা নিয়েছে এবং বিএনপির সুবিধাও নিচ্ছে। নেতারাই যদি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে,তা হলে সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকবে কি করে! জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশকে রাখতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদক নির্মূল-অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন প্রকারের অপরাধ নির্মূলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন কঠিন হস্তে কর্মকাণ্ড পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। তারা যদি শেষ পর্যন্ত দেশ-জাতীয় স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্য পালন করেন,তবে সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে যদি যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা হয়,তা হলে পুলিশের প্রতি দেশবাসী আজীবন কৃতজ্ঞ থেকে সম্মানের সাথে পুলিশদেরকে মূল্যায়ন করবেন এবং পুলিশ তাদের গৌরব ফিরে পাবেন। এ সমস্ত কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে পারলেই সবার আগে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী মূল্যায়ন হবে। তবে বৈষম্যহীনতার আলোকে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হলে সোনায় সোহাগা হবে এবং সবার আগে বাংলাদেশের নাম শোভা বৃদ্ধি পাবে। দেশের সাধারণ মানুষ অগ্রভাগে থেকে সরকার বদলায় কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলায় না। শুধু বয়ানবাজ ও সুবিধাবাদী নেতাদের ভাগ্য বদলায়। সাধারণ মানুষের উন্নয়নে দলের নেতারা কাজ করে নাই। ওরা নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে এই বৈষম্যতা দূর করতে এবং সাধারণদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার আলোকে বিশ্বমানের উন্নয়নের চিন্তা তখনই সফল হবে। যখন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন বৈষম্যহীনতার আলোকে সফল হবে এবং ভোগীদের ধারাবাহিক ভোগ করার পথ চিরতরে বন্ধ হবে। বেছে-বেছে এই কাজগুলো করতে পারলেই-প্রধানমন্ত্রী হবেন সবার আগে বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। নেতাদের ধারাবাহিক উন্নয়ন কমাতে হবে এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কোন-কোন এমপি-মন্ত্রী-নেতা আছে যারা অপকর্মের সাথে জড়িত এবং সবার আগে বাংলাদেশকে দেখতে চায়না। সুতরাং তাদেরকেও আইনের আওতায় নেওয়া উচিত হবে। তা না হলে সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে না। অপকর্ম নির্মূল করাই হোক প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার-খুলে যাক দেশ ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নের দুয়ার। সুযোগ-সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী নেতারা বারবার করবেন ভুল,আর সেই ভুলের মাশুল দিবেন সাধারণ ত্যাগী কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীরা,এ হয়না।
লেখক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট