গাজীপুরের পুবাইলের হায়দারাবাদ এলাকায় মামলা, গ্রেপ্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তরুণ ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী মোঃ রানা মিয়া। তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ বুধবার গাজীপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে রানা মিয়া বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার এজাহারে যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রানা মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রানা মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়া ও বেনামি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের কারণে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো শুধু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয় নয়, এর ফলে তাঁর ব্যবসা, সামাজিক সম্পর্ক ও পরিবারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই এসব অপপ্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে তাদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রানা মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং ভুয়া বা বেনামি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি প্রকৃত অপরাধী থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাই রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত কোনো প্রভাবের বাইরে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে রানা মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য যাচাই-বাছাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে রানা মিয়ার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মামলাটির প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। মামলায় সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।