ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৮৩ নং খনগাঁও-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক দুটি হাজিরা খাতা ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৩ নং খনগাঁও ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা ২ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভা রানী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান শিক্ষিকার স্বামী ক্ষীরথ চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হুমকি-ধামকিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন। তবে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি চার্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভা রানীর নাম ছাড়া অন্য তিনজন শিক্ষকের নাম বা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিদ্যালয়ে পৃথক দুটি হাজিরা খাতার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের হাজিরা খাতা আলমারির ভেতরে রাখা হলেও অন্য তিন শিক্ষকের হাজিরা খাতা বাইরে রাখা ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সাথী আক্তার ও জিয়াউর রহমান নামে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভা রানীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর একাধিক তদন্ত হলেও তা আমলে না নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন কর্মকর্তার নামেও আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের তদারকি, নিয়োগ-বাণিজ্য, শিক্ষকদের সঙ্গে বিশৃঙ্খল আচরণ, দুটি পৃথক হাজিরা খাতা পরিচালনা এবং বরাদ্দকৃত স্লিপের অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও তার স্বামী ক্ষীরথ চন্দ্র রায়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষকরাও বিভিন্ন ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর ভাঙা ও বাগান অপরিচ্ছন্ন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভা রানী বলেন, “আমার প্রোগ্রাম আছে। সেখানে ১৬টি স্কুলের খেলাধুলা চলছে। আমি ওই প্রোগ্রামে যাচ্ছিলাম, আপনাদের খবর পেয়ে স্কুলে আসলাম।” শিক্ষকদের হাজিরা খাতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার হাজিরা খাতা আলাদা। ওদের তিনজনের আলাদা খাতা আছে কিনা আমি জানি না।” এছাড়া তিনি নিজের পিটিআই প্রশিক্ষণ না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হরিপ্রসাদ রায় বলেন, “বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই অনিয়মের সুরাহা চান।