কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী শাহ আলম। স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি তাঁর এই প্রতিশ্রুতিসমূহ তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে শাহ আলম জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, বরং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠন করা।ইস্তেহারে পালংখালী ৭নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে এবং স্থানীয়দের স্বার্থ সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা:বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সব ধরনের সরকারি অনুদান মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়ম ছাড়া প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
রোহিঙ্গা প্রভাব নিরসন ও কর্মসংস্থান: স্থানীয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক এনজিও/আইএনজিও (INGO/NGO)-গুলোর সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় অধিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত সমাজ:আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ।মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা: পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ শালিস ব্যবস্থা চালু করা এবং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।
অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য:ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিশুদ্ধ খাবার পানি (গভীর নলকূপ) এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা।
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও যুব উন্নয়ন:প্রাথমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, তরুণদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে কর্মশালার আয়োজন এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে যুব সমাজকে সুসংগঠিত রাখা।
উন্মুক্ত গণশুনানি:জনগণের সমস্যা সরাসরি শুনতে ও সমাধান করতে নিয়মিত “জনগণের মুখোমুখি” বা উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করা।
ইস্তেহার প্রকাশকালে শাহ আলম বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে নয়, বরং একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। ৭নং ওয়ার্ডের প্রতিটি নাগরিকের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে ন্যায়বিচার ও এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের একটি মূল্যবান ভোটই পারে এই ওয়ার্ডের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন হওয়ায় ৭নং ওয়ার্ডে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। শাহ আলমের এই সুনির্দিষ্ট ইস্তেহার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।