“ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, এই নালা দিয়ে পানি চলাচল করতো। গত কয়েক মাস আগে কে বা কারা রাতের আঁধারে নালাটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের চাষাবাদ হচ্ছে না। ঘরের উঠানে পানি, পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।” কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ খোকন। স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন আকতার বলেন, “ওদিকের কারা নাকি পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসায় সমস্যা হচ্ছে।”
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি নামতে না পেরে পটিয়ার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়াসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ২০০ পরিবার।সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে জমে আছে পানি। কোথাও পানিতে তলিয়ে গেছে চাষাবাদের জমি ও পুকুর। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছ চাষি ও খামারিরা।
স্থানীয়রা জানান, কাজীপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি ত্রিমুখী সড়কের মঙ্গলের টেক এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মরা খাল হয়ে চাঁন্দখালী খালে গিয়ে পড়ত। তবে সম্প্রতি মঙ্গলের টেক এলাকায় পানি চলাচলের পথটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে উত্তর হাইদগাঁও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকার বড় একটি অংশ এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। পানি জমে থাকায় চাষাবাদ করতে পারছেন না স্থানীয়রা। পাশাপাশি কয়েকটি পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ চাষিরাও পড়েছেন ক্ষতির মুখে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী আরিফ উল্লাহ বলেন, “আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্ষার পানি নেমে গেলেও কাজীপাড়া এলাকার পানি এখনো নামেনি। এর অন্যতম কারণ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলের টেক এলাকায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া। পানি জমে থাকায় এখনো প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।”
তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এ বিষয়ে হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি চলাচলের পথটি উন্মুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।