পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির মহোৎসব চলছে। বিশেষ করে মুড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি বা সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ফলে এসব মুড়ি খেয়ে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার টেংগনমারী এলাকার ‘মেসার্স ভাই ভাই মুড়ি অ্যান্ড চিড়ামিল’-এ গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। অনুমোদনের সময় অটো মেশিন ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে মুড়ি ভাজা হচ্ছে। এতে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এছাড়া কারখানার ভেতরে অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও খোলা জায়গায় মুড়ি প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মুড়ি সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাবার হওয়ায় এটি ধোয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে উৎপাদনের সময় নোংরা পরিবেশের সংস্পর্শে এলে এতে ক্ষতিকর জীবাণু থেকে যায়, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. ছাইদুল ইসলামের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, “উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে এর আগেও জরিমানা করা হয়েছিল। যেহেতু আবারও অভিযোগ উঠেছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”