রাঙামাটি থেকে বড়ইছড়ি ও রাজস্থলী হয়ে চলাচলকারী বাস সার্ভিস আরও নিয়মিত ও বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও যাত্রীরা। তাঁদের মতে, গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
৫ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরনজিত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এলাকার স্বার্থে রাঙামাটি থেকে বড়ইছড়ি রুটে যেন সবসময় নিয়মিত বাস চলাচল করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু থাকলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
কাদেরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া বলেন, জনস্বার্থ ও এলাকার উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে রাজস্থলী–বড়ইছড়ি–রাঙামাটি রুটে বাস সার্ভিস বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের জন্য সিএনজিতে নিয়মিত যাতায়াত অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাস সার্ভিস বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কমবে এবং নিরাপদ গণপরিবহনের সুযোগ বাড়বে।
রুটের কাউন্টার সার্ভিসের টিকিট মাস্টার বাহাদুর জানান, বর্তমানে দুই থেকে চারটি গাড়ি কখনো কখনো চলাচল করে। তবে নিয়মিত ও পর্যাপ্তসংখ্যক বাস চলাচল করলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের যাত্রীছাউনিটি সংস্কার করে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করা প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি–বড়ইছড়ি এলাকার এই বাস সার্ভিসটি ২২ জুলাই ১৯৯৮ সালে তৎকালীন থানা নির্বাহী অফিসার মো. শফিক উল্লাহর হাতে উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ রুটে বাস চলাচল থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত সার্ভিস না থাকায় যাত্রীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাঙামাটি–বড়ইছড়ি এবং রাজস্থলী–বড়ইছড়ি–রাঙামাটি রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট সময়সূচি চালু, যাত্রীছাউনি সংস্কার এবং নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন মালিকদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং কাপ্তাই-রাঙামাটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে।