ছাতক পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক কমিশনার ও বিশিষ্ট সমাজসেবী স্বর্গীয়া বীথিকা দাস বীথির কর্মজীবন, মানবিকতা ও সামাজিক অবদানের স্মৃতিচারণে এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) ছাতকের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী গোপাল মন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী গোপাল সেবার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে রাতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন অংশ নেন।
সাংবাদিক সেলিম মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বীথিকা দাস বীথির জ্যেষ্ঠ কন্যা অনামিকা দেব জনি, দোয়ারাবাজার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন কর, ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, ছাতক মহাপ্রভু আখড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পীযুষ ভট্টাচার্য, ছাতক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও ছাতক সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক হরিদাস রায়, ছাতক উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ লাল মিয়া, ছাতক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া, ছাতক রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি রবীন্দ্র কুমার দাস, সাবেক সভাপতি মহন্ত রায়, সাধারণ সম্পাদক তাপস কান্তি দত্ত চম্পু, লিটন ঘোষ, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর রত্না রাণী মালাকার এবং বীথিকা দাস বীথির ছোট বোন সাথী দাসসহ অনেকে।
স্মরণসভার শুরুতে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন পৌলমী দেব। বক্তারা বীথিকা দাস বীথির বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড, মানবিক গুণাবলি এবং সমাজকল্যাণে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, বীথিকা দাস বীথি ছিলেন একজন মানবিক, পরোপকারী ও জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব। সমাজ উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ছাতকবাসী দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
উল্লেখ্য, বীথিকা দাস বীথি ১৯৬১ সালের ৯ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ছাতকের নিজ বাসভবনে আনা হলে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগ মহল্লায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
নাগরিক শোকসভায় ছাতক পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিপুলসংখ্যক নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শোক, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণের আবহ বিরাজ করে।