চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলের পর পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় যুবলীগ নেতা শাকিল (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার চন্দনাইশ এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের একটি দল হামলার সঙ্গে জড়িত অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের জন্য প্রধান আসামি সন্ত্রাসী শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।”
গত ১১ আগস্ট রাতে বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিং ঈশান মিস্ত্রি হাট খালপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি বড় মিছিল করছিলেন, যার নেতৃত্ব দেন যুবলীগ নেতা শাকিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই শাকিল ও তার সহযোগীরা অতর্কিতে পুলিশের উপর আক্রমণ করে। এ সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ রানার মাথা, গলা, হাত ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় পরবর্তীতে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ঐ মিছিলে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করে পুলিশ সন্ত্রাস দমন ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে এবং বর্তমানে এ অভিযানের মাধ্যমে মোট ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার দ্রুততম বিচার দাবি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এবং সমাজে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পূর্বনির্দেশনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। আশা করা যাচ্ছে, এই তদন্ত এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা প্রদান করবে, যাতে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ হতে পারে।
চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণ এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা সমাজে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।