ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের উত্তর পাড়া এলাকায় একটি বাড়ির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের বৈধ মালিক দাবি করে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে।
লিখিত অভিযোগে মো. মান্নান মিয়া (৫৮) দাবি করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে কোনো ধরনের আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই বাড়ির মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের উদ্দেশ্যে বাড়ির গেটের সামনে দুই পাশে ইট এনে রাখা হয়। পরে কয়েকদিন পর ওই ইট একটি খালি কক্ষে রাখা হয়। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত জাবেদ আহমেদ বাড়ির মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন, যা বাড়ির মালিকের সম্মতি ছাড়া আইনসম্মত নয়।
মান্নান মিয়া আরও অভিযোগ করেন, ১ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) রাতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাঁর লোকজন বাড়ির চারটি কক্ষে তালা লাগান। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, জাবেদ আহমেদ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দাখিল করা অভিযোগে দাবি করেন, তিনি ২০১০ সালে প্রায় ৮০ লাখ টাকায় বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি ক্রয় করেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি মামলা-হামলার শিকার হন এবং দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। সেই সুযোগে তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তির চারটি কক্ষ মো. মান্নান মিয়ার দখলে চলে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাবেদের দাবি, তিনি কখনোই জোরপূর্বক বাড়ির মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেননি। তাঁর ভাষ্য, বাড়ির সামনে আনা ইট চুরি হওয়ার আশঙ্কায় একটি খালি কক্ষে রাখা হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও থানা পুলিশ একাধিকবার উভয় পক্ষকে বসে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও মান্নান মিয়া আলোচনায় রাজি হননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। একই সঙ্গে নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(বিঃদ্রঃ: প্রতিবেদনটি উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।)