বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে মহামারি আকার ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মোজাম্মেল কাজীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে একের পর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিনে দিনে এই সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে গত কয়েক মাসে রেকর্ড সংখ্যক বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে অথবা প্রভাব খাটিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মোজাম্মেল কাজী এই বিষয়গুলোতে মধ্যস্থতা করেন এবং তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এখানে আইন যেন কেবল কাগজে-কলমে। মোজাম্মেল কাজীর দাপটে ছোট ছোট মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন সব জেনেও চুপ। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।” সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে এই ইউনিয়নে নারী শিক্ষার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের হলেও, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে তাদের কোনো কার্যকর অভিযান বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা মোজাম্মেল কাজীর মতো ব্যক্তিদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।