আমি অধরা…
নামটার মতো মেলেনি জীবনের মানে,
তবু প্রতিদিন সেই নামেই
নিজেকে ডাকি সাহস দিয়ে।
বিয়ের ঘরটা সাজানো ছিল—
তবুও যেন কিছু ছিল শূন্য,
ভালোবাসার বদলে পেয়েছি বোঝা,
মমতার বদলে পেয়েছি কাঁটা-ছোঁয়া।
আমার বাবা নেই—
তাই “বাবা” নামটা আমি নিজেই হতে শিখেছি,
ভাইটা আছে,
তবু যেন নেই—
তার দায়িত্বহীনতা আমাকে আরও পরিণত করে দিয়েছে।
আর মা…
সে তো এখন আমার শিশুর মতো,
তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়
নিজেকে ভুলে গিয়েও।
রাতে যখন সবাই ঘুমায়,
আমি জেগে থাকি—
ভবিষ্যতের ভাঙা দরজায়
এক চিলতে আশার আলো খুঁজি।
আমি ভাবি—
পড়বো, শিখবো,
নিজের পায়ে দাঁড়াবো,
শুধু নিজের জন্য নয়—
আমার মায়ের চোখের জল মুছাতে।
আমি অধরা…
তবুও ধরা দিতে চাই সময়কে,
নতুন করে গড়তে চাই
ভবিষ্যতের মানচিত্র।
কেউ আমাকে দেখে ভাবতে পারে—
“এত কষ্ট নিয়ে কীভাবে বাঁচে!”
তাদের বলি—
আমার ভেতরেই জ্বলছে এক দ্বীপ,
যে আলো শুধু আমাকে নয়—
অন্য মেয়েদেরও সাহস জোগাবে।
আমি অধরা,
ভেঙে যাইনি,
শুধু নিজেকে গড়ে নিচ্ছি একটু একটু করে—
একদিন, ঠিকই চিনবে সবাই…
এই নামটা।