রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় আউশ ধানের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। মাঠে মাঠে এখন শুধু সবুজের সমারোহ, আর তা ঘিরে কৃষকদের মুখে ফুটছে আনন্দের হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোহনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চফলনশীল উফশী ও ব্রি ধান-৪৮, ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ বেশি করা হয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধান রোপণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়নি। বর্তমানে ধানগাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে এবং গোছা বেশ শক্ত হচ্ছে। ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকরা নিয়মিত জমি নিড়ানি দেওয়া, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ দেওয়া এবং কীটনাশক ছিটানোর কাজে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
মোহনপুরের কেশরহাট এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের চেহারা বেশ চমৎকার হয়েছে। এখন একটু পরিচর্যা বেশি করতে হচ্ছে যাতে পোকামাকড় ক্ষতি না করতে পারে। ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে গতবারের চেয়ে এবার লাভ বেশি হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আউশ ধানের ফলন বাড়াতে সরকার থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা সারাক্ষণ কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর মোহনপুরে আউশ ধানের রেকর্ড পরিমাণ ফলন অর্জিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।