২২ মে ২০২৬ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এর কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল (সার্ড) পরিচালিত ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন (বিএজিএড) প্রোগ্রামের কারিকুলাম উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরস্থ মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষক সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ সভায় আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও কর্মমুখী কৃষিশিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিশিক্ষাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও গবেষণানির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদধারী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাউবির শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করে নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও কর্মমুখী কারিকুলাম প্রণয়ন সময়ের দাবি। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিশিক্ষার সমন্বয়ে এমন একটি আধুনিক সিলেবাস তৈরি করতে হবে, যা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা মোকাবিলা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উপাচার্য জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৃষিশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত সময়ের মধ্যে যুগোপযোগী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, যিনি সার্ডের সাবেক ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া সভায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. এএসএম গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী এবং ড. কামরুন্নাহার মনিরাসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও কারিকুলাম কমিটির সদস্যরা।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন মো. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বিএজিএড প্রোগ্রামের মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিশিক্ষার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলামকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী সকলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রস্তাবিত কারিকুলাম দেশের কৃষিশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং জাতীয় কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।