শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভালোবাসার কাছে আজ হার মানলো সব নিয়ম কানুন। প্রাথমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থী চায় মমতা, আদর, ভালোবাসা। আর একজন প্রকৃত শিক্ষক মাতৃস্নেহ দিয়ে শিক্ষার্থীদের আগলে রেখে পাঠদান করবেন এমনটিই অভিমত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট চিন্তক সহ অভিভাবক মহলের। তেমনি একজন গুনী শিক্ষিকা পপি আক্তার। যার বদলি আদেশ শোনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকরা বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে রাস্তায় নেমেছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারিতে সহকারী শিক্ষিকা পপি আক্তারের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও অনশন করে বিক্ষোভ করার ঘটনাটি ঘটেছে।
আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ৪৫ নং যুগিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (০৯অক্টোবর) সকাল থেকে প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে সেখানে অভিভাবক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলনে এক আবেগঘন পরিবেশের তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বদলি আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জনসহ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে।
যুগিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা বেগম জানান, গত ৮ অক্টোবর সহকারী শিক্ষিকা পপি আক্তারকে পঞ্চগড় সাদরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে পপি আপা না থাকলে আমাদের পড়াশোনা হবেনা। ম্যাডাম আমাদের স্কুল শুরুর পূর্বে এবং স্কুল ছুটির পরেও প্রাইভেট পড়ান বিনিময়ে কোন টাকা নেননা।স্কাউট বিষয়ে আগে আমরা কিছুই জানতামনা, ম্যাডাম আসার পরে আমরা স্কাউটিং শুরু করি এবং ইউনিয়ন ও উপজেলায় পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছি।
অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলে ৬ জন শিক্ষক থাকার কথা রয়েছে কিন্তু বর্তমানে আছে ৪জন। তন্মধ্যে ২ জন নিয়মিত এবং অপর ২ জন ডেপুটেশনে রয়েছে। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ না করে উল্টো বদলি আদেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাবে।
অভিভাবক নিপা রাণী বলেন, শিক্ষার্থী বান্ধব দায়িত্বশীল শিক্ষিকা পপি আক্তার নিজের সন্তানের মতো বাচ্চাদের দেখাশোনা করে, তাই এই বদলি আদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুর দেড়টা সময়, পঞ্চগড় থেকে জেলা প্রাথমিক অফিসার জনাব সমেশ চন্দ্র মজুমদার বদলিকৃত শিক্ষিকা পপি আক্তারকে নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আটোয়ারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ হাসান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিভাবকদের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসেন। জেলা শিক্ষা অফিসার অভিভাবকদের বলেন, একজন শিক্ষক বদলি হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায় না। একথা শুনে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোপের সৃষ্টি হয়। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সকলকে স্কুলের মধ্যে অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ প্রসাশনের সহযোগিতায় অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসলে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের মধ্যস্থতায়, জেলা শিক্ষা অফিসার পপি আক্তারকে সোমবারের মধ্যে পূর্নবহাল করে বদলী বাতিল করবেন বলে- অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীরা প্রানপ্রিয় শিক্ষকের প্রত্যাবর্তনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন।