অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন ছাত্রলীগের হাতে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ। পরে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান নাসিরুদ্দিন। এ সময় তার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবরার ফাইয়াজসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবরার ফাইয়াজ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বুয়েট ক্যাম্পাসকে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বুয়েট এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত হয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল। নামাজ আদায়ে আপত্তি না থাকলেও নামাজ শেষে স্লোগান বা মিছিলের মতো কার্যক্রম ক্যাম্পাসের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই অভিযোগের জবাবে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে তিনি তারাবির নামাজ পড়তে সেখানে যান। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া যাবে না—এ কথা জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মেনে নেন এবং শুধুমাত্র নামাজ আদায় করেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নামাজ শেষে তাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করা হলে সেটিও সম্মান জানিয়ে গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শুধু শহীদ আবরার ফাহাদ ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন বলে জানান। পরবর্তীতে পলাশী এলাকায় গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কিছু ব্যক্তি স্লোগান দিলে তিনি নিজেই তা বন্ধ করার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন।
নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, বুয়েটের অরাজনৈতিক অবস্থানকে তিনি সম্মান করেন এবং তার কর্মকাণ্ড সেই অবস্থানের পরিপন্থী ছিল না। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ বা সমালোচনা হলে সেটিও তিনি গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করেন।