সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামে তাসলিমা আক্তার চৌধুরী (৩৩) নামে দুই সন্তানের এক জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার খায়েরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসলিমা একই গ্রামের খাইরুল মিয়ার স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের বড় মেয়ের বয়স ৪ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ২ বছর। খাইরুল মিয়া একজন প্রতিবন্ধী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তাসলিমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, নিহতের পরিবারের অভিযোগ—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পারিবারিক নির্যাতনের জেরে তাসলিমাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ভাই হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বোন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে কয়েক মাস বাবার বাড়িতে থাকার পর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাসলিমা আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাসলিমার স্বামী খাইরুল মিয়া। তিনি বলেন, অতীতে কিছু পারিবারিক সমস্যা থাকলেও তা স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে মিটে গিয়েছিল এবং বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। ঘটনার দিন সকালে স্ত্রী তাকে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বলেন। বাড়িতে ফিরে এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা খুলে তাসলিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুজল কর্মকার জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।