রাজশাহীর তানোরে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে তানোর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ও তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোতালেব হোসেনের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- আফসোস !
যে মুখগুলো আজ দেখছি, তারা কি সত্যিই জুলাই যোদ্ধা ?
মাঠে নেমে আন্দোলন করা তো দূরের কথা, ফেসবুকে একটি পোস্ট পর্যন্ত করেনি-তারাই আজ সামনের কাতারে।
কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, আহত হয়েছিল, কিংবা পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের কাউকে এই অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে এই পোস্ট দেয়ার পর পরই উপজুলে জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আসলে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তাদের স্মরণে এই আয়োজন না দায় সারা আয়োজন ? অন্যদিকে এই ভিডির কমেন্টে দেখা গেছে মানুষ বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ও নিন্দা জানিয়ে অপ্রকাশযোগ্য ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও জুলাই যোদ্ধা মোতালেব হোসেন এমন লোক দেখানো আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করে ঘটনার অধিকতর তদন্ত দায়িত্বশীলের দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও জুলাই যোদ্ধা মাসুদ করিম বিক্সুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিগত ১৭ বছর বাড়ি থাকতে পারিনি, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি।অথচ জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পায়নি,তাহলে কাদের নিয়ে আয়োজন সেটা অবশ্যই অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।
জানা গেছে,বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনিক হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নাঈমা খান। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অবদান তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনসুর
রহমান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তানোর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলী, তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাম্মেল হক, তানোর পৌর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, ছাত্র প্রতিনিধি রায়হান ও মামুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁদের ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জুলাই শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।