ধামরাই (ঢাকা) ঢাক-ঢোল, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর লাখো ভক্তের ‘হরি বোল’ ও ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ধামরাই। আজ বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশ মাধবের ঐতিহাসিক রথটান উৎসব।
বিকেল ৪টার দিকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে নারকেল ফাটিয়ে এবং লাল-সবুজের রশি টেনে ঐতিহ্যবাহী এই রথটানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সকাল থেকেই ধামরাইয়ের কায়েতপাড়া এলাকার মাধব আঙিনায় শুরু হয় ধর্মীয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, বিশেষ পূজা ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শ্রী শ্রী যশ মাধব জিউর মূল বিগ্রহকে সাজানো হয়। দুপুরের পর মহাশোভাযাত্রার মাধ্যমে দেব-বিগ্রহকে মন্দির থেকে বের করে এনে প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন তিন তলা রথের ওপর স্থাপন করা হয়।
বিকেলে রথের রশি ধরে টান দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে মেলা প্রাঙ্গণে নামে লাখো মানুষের ঢল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এই রথটানে অংশ নেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই রথের রশি স্পর্শ করলে বা টানলে পুণ্য লাভ হয়।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আজ রথটানের মাধ্যমে শ্রী শ্রী যশ মাধব জিউ তাঁর নিজ মন্দির থেকে যাত্রা করে শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ গুন্ডিচা মন্দিরে (যশ মাধবের মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত) গিয়ে অধিষ্ঠান করছেন। সেখানে আগামী ৯ দিন মাধব জিউ অবস্থান করবেন। এরপর আগামী [উল্টো রথযাত্রার তারিখ] তারিখে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে মাধব জিউ পুনরায় তাঁর নিজ মন্দিরে ফিরে আসবেন।
রথটানের মধ্য দিয়ে ধামরাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী রথমেলা। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, হরেক রকমের তৈজসপত্র, মাটির খেলনা, বাঁশ ও কাঠের তৈরি নান্দনিক জিনিসপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি-মণ্ডার শত শত দোকান বসেছে। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও সার্কাস।
রথ যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি জনাব নুরুল ইসলাম মনি,এমপি মাননীয় চিপ হুইপ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।
বিশেষ অতিথি জনাব মোঃতমিজ উদ্দিন মাননীয় সংসদ সদস্য ঢাকা-২০(ধামরাই)
সুলতানা আহমেদ মাননীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী আসন)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।
জনাব মোঃইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ(প্রশাসক, জেলা পরিষধ,ঢাকা
আরো ছিলেন ধামরাই উপজেলা প্রশাসক আল মামুন (ইউএনও),সহকারী কমিশনার রেদোয়ান আহম্মেদ রাফি (ভূমি)
কঠোর নিরাপত্তা ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আজকের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে ধামরাই পৌর এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
আজকের এই উৎসব কেবল সনাতন স্বাবলম্বীদের ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; সকল ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ধামরাইয়ের এই রথটান উৎসব বরাবরের মতোই রূপ নিয়েছে এক অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায়।