পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও স্থানীয় জনগণের অধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ফেডারেশনের উদ্যোগে “সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা, খাস জমি ও জলমহল সংক্রান্ত আইন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জাল কর্মসূচি” বিষয়ক একদিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) রাঙ্গাবালী উপজেলার নেতাবাজারস্থ সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ-এর ফিশনেট প্রকল্পের এডভোকেসি অফিসার মিজানুর রহমান। তিনি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার শেখ রুসায়েদ উল্লাহ। তিনি খাস জমি ও জলমহল সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, সরকারি নীতিমালা এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা জাল কর্মসূচির আওতায় সরকারের বিভিন্ন সুবিধা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।
প্রশিক্ষণে আরও উপস্থিত ছিলেন ফিশনেট প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আরিফুজ্জামান এবং শেখ মেহেদী হাসান তমাল। তারা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠ পর্যায়ে আইন বাস্তবায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অধিবেশনে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিদ্যমান আইন, খাস জমি ও জলমহল ব্যবস্থাপনার নীতিমালা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের অধিকার, আবেদন পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তারা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের আইন সম্পর্কে সচেতন করবে এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে