কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরের কাটাফাঁড়ি থেকে জালিয়াখালী বেড়িবাঁধের বকসুচৌকিদার পাড়া অংশে ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বস। চলমান বৃষ্টির ফলে ও পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে যেকোন সময় ধ্বসে পড়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতির কারণে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিরা মৎস্য চাষের নামে অপরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধে আরসিসি পাইপ বসিয়ে বেড়িবাঁধকে ক্ষত-বিক্ষত করে ঝু্ঁকিপূর্ণ করে তুলেছে যা আজ সাধারণ মানুষ তথা সরকারকে ব্যতিব্যস্ত বা দুশ্চিন্তার মধ্যে পতিত করেছে। চলমান বৃষ্টি অপরিবর্তিত থাকলে বেড়িবাঁধ ধ্বসে গিয়ে পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের প্রায় সব বসতিসহ লক্ষাধিক মানুষ পানিতে ডুবে যাবে এবং সাধারণ মানুষের গবাদি পশু, কৃষিক্ষেতের বীজতলা ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে যাবে। ফলে পেকুয়ায় দূর্বিসহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হবে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তামুলক বাঁধ দেয়া যাচ্ছে না। এ বিপদ থেকে রক্ষার উপায় মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোন পন্থা নেই অভিমত স্থানীয়দের।
সমাজকর্মী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আজিম জানান,বর্ষা মৌসুম আসলেই নড়ে চড়ে বসে সংশ্লিষ্টরা অথচ শুষ্ক মৌসুমে সম্ভাব্য ঝু্ঁকির কথা বিবেচনায় রেখে কাজ করা করা উচিত। যারা মৎস্য চাষের নামে এ বেড়িবাঁধের উপর যত্রতত্র আরসিসি পাইপ বসায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা জরুরী। নতুবা প্রতি বছরই সাধারণ মানুষ ও সরকারকে অনাকাংখিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
সদর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ আজাদ জানান, ইউ এন ও এবং চেয়ারম্যান মহোদয়সহ আমরা বেড়িবাঁধের ঝু্ঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করে এসেছি। আপাততঃ ঝু্ঁকি এড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সদর ইউপি’র চেয়ারম্যানসহ বেড়িবাঁধের ঝু্ঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করে এসেছি। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং অবৈভাবে পাইপ বসানো লোকের বিরুদ্ধে ত্বরিৎ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজারের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান,মৎস্য চাষের নামে বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে অপরিকল্পিত আরসিসি পাইপ বসানোর কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই ধ্বসে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবৈধ আরসিসি পাইপ বসানো লোকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা শীগ্রই ব্যবস্থা নেবে। অবিরাম বৃষ্টি চলমান থাকায় নিরাপত্তামুলক পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি বন্ধ হলে জরুরীভাবে সংষ্কার কাজ করা হবে ইনশাআল্লাহ।