প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে বেতন-ভাতা। অথচ হাসপাতালের দৈনন্দিন কাজে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। এভাবেই টানা ১৪ মাসের পারিশ্রমিক না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন আশুলিয়ার বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের ২০ জন নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কার্যক্রমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাদের পারিশ্রমিক বন্ধ রয়েছে। একের পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও বকেয়া অর্থ পরিশোধের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা হয়নি। এতে সংসার খরচ, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী সাগর বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা পরিশোধের অপেক্ষায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী লাইলি, রেহানা ও সাহিদা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তাদের অনেক সময় অফিসের বিভিন্ন কাজও করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধান করছেন।
এক কর্মী জানান, তিনি স্ত্রী, সন্তান ও বাবাকে নিয়ে আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘদিন আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাকর্মী ফারুক ও ইমরান জানান, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের টিকিট মাস্টার মোকছেদ বলেন, আউটসোর্সিং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে ১৪ মাসের পারিশ্রমিক পাওনা রয়েছে। আবু তারেক, মোকছেদ দেওয়ান, মিজানুর রহমানসহ মোট ২০ জন কর্মী একই সমস্যায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন শাখায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট জিরানী বাজার এলাকায় ৩০ শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে হাসপাতালটি।
তবে হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আউটসোর্সিং কর্মীদের দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের দাবি, প্রকল্পের প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও তারা যে সময় কাজ করেছেন, সেই সময়ের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ-কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. এস কে এম শিবলী রহমান বলেন, “আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে জনবল ও চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সংকট কাটাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ১৪ মাসের বকেয়া পারিশ্রমিক কবে পরিশোধ হবে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাননি ভুক্তভোগী কর্মীরা। দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।