মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খুলনা ওয়াসায় বিতর্কিত নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন করার পায়তারা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, গত, ১৩/১১/২৫ তারিখে খুলনা ওয়াসা একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিধান থাকলেও, ওই বিজ্ঞপ্তিতে অভ্যন্তরীণ যোগ্য প্রার্থীদের কেন সুযোগ রাখা হয়নি। এর প্রতিকারে বঞ্চিত ২৪ জন কর্মচারী মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালতে উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু ডিএমডি ঝুমুর বালা সেই আদেশের কপি সরাসরি গ্রহণ করেননি এবং ডাকযোগে পাঠানো হলেও তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। সব নিয়ম- নীতি ও আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত শুক্রবার ১০ জুলাই ছুটির দিনে খুলনা ওয়াসার ২১ টি পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরিক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে খুলনা ওয়াসার একটি অভ্যন্তরিন রেজিষ্ট্রার খাতার বিবরণী থেকে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লুটের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ পরিক্ষার সম্ভাব্য ব্যয় বাবদ ” জনতা ব্যাংক পিএলসি, খুলনা কর্পোরেট শাখার একটি চেকের ( নং – ৭৪৪২০৮০) মাধ্যমে ৯,১৭,৯৩০ টাকা ( নয় লক্ষ সতেরো হাজার নয়শত ত্রিশ টাকা) অগ্রিম হিসেবে তুলে নেওয়া হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২১টি পদের বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে ৪৩,৭১১ টাকা – যা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও রাস্ট্রিয় সম্পদের নজিরবিহীন অপচয় ছাড়া কিছু নয়। খুলনা ওয়াসা কর্মকর্তা – কর্মচারীদের অভিযোগ, ঝুমুর বালার দুর্নীতির খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। বাগেরহাটের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালীন মাত্র দুটি টাইলস ও একটি ক্যামেরা ভাংচুরের অজুহাতে তিনি মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ লক্ষ টাকার ভুয়া ক্ষতিপুরন দাবি করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় এবং দুদক তদন্তে সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে চলমান। এছাড়া বরিশালের উজিরপুরে কর্মরত থাকাকালীন কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই নিজের আপন ভাইকে কাজ দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে খুলনা ওয়াসার যে সমস্ত কর্মকর্তা – কর্মচারী সোচ্চার হয়েছেন, তাদেরকে বিভাগীয় মামলা, শোকজ এবং চাকুরীচ্যুতির ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর আগেও তার অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাংচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এব্যাপারে ডিএমডি ঝুমুর বালার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।