নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে লালমনিরহাট জেলা সমবায় কার্যালয়ে চলছে নানামুখী অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা। জেলা সমবায় কর্মকর্তার সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন অফিসে আসা, অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা এবং অফিসের সরকারি কক্ষে বিছানা পেতে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি সরেজমিনে সমবায় অফিসে গিয়ে অনুসন্ধানে নামেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। আর তাতেই বেরিয়ে আসে ভেতরের থমথমে আর বিশৃঙ্খল চিত্র।
অফিস পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একটি সরকারি কক্ষকে রীতিমতো ব্যক্তিগত শয়নকক্ষে রূপান্তর করা হয়েছে। মেঝের ওপর ( জাজিম তোষক) বিছানার চাদর-বালিশ দিয়ে বিছানা পাতা অবস্থায় দৃশ্যমান। একটি সরকারি দপ্তরে এভাবে ফ্লোরিং করে বিছানা পাতার আইনি ভিত্তি বা কারণ জানতে চাইলে, ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও লুকোচুরির ভাব দেখা যায়।
জেলা কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামসহ সকল কর্মচারীরা ঠিক সময়ে অফিসে আসেন কি না, তা যাচাই করতে সাংবাদিকরা হাজিরা খাতা (অ্যাটেনডেন্স শিট) দেখতে চান। কিন্তু খাতাটি প্রদর্শন না করতে অফিসের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) নানা অজুহাত ও টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, স্যার আসলে উনিই আপনাদের দেখাবেন। তাৎক্ষণিকভাবে হাজিরা খাতা আড়াল করার এই চেষ্টা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাঁকিবাজি ও অনিয়ম আড়াল করার কৌশল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ওনার ইচ্ছেমতো অফিস চালান। সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দুই দিন তিনি কার্যালয়ে আসেন। অথচ বাকি দিনগুলোতেও হাজিরা খাতায় তাঁর স্বাক্ষর নিয়মিত হয়ে যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে। কর্মকর্তার এমন দায়সারা উপস্থিতির কারণে অফিসের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে সরকারের সমবায় কার্যক্রম এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সেবা না পেয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে জেলা সমবায় কর্মকর্তার মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, আমারা নিয়মিত হাজিরা খাতা স্বাক্ষরের ছবি সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক গ্রুপে পাঠাই। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের হাজিরা খাতা দেখার কোন এখতিয়ার নেই। অফিস কক্ষে বিছানা পাতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে এতদিন এ বিষয়ে কিছু বলিনি। তবে এখন এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এবিষয় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।