মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আতিক বিন কয়েছ (২০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত আতিক টেংরা ইউনিয়নের পণ্ডিতনগর গ্রামের কয়েছ বিন নূরের একমাত্র ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং এলাকার শিক্ষানুরাগী মরহুম আব্দুর নূর মাস্টারের নাতি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পণ্ডিতনগর গ্রামের উমর মিয়া, তার ছেলে মুন্নাসহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আতিকের পথরোধ করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। এতে আতিকের পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তাকে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ফুসফুস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনদের দাবি, হামলার পেছনে পূর্বের বিরোধ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে রাজনগর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।