সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতের শেষ প্রহর—আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন একটি ৫ বা ৬ ইঞ্চির কাঁচের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ। শৈশবের ধুলোবালি খেলা, কৈশোরের আড্ডা কিংবা পরিবারের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো জায়গা করে নিয়েছে ভার্চুয়াল দুনিয়ার লাইক, কমেন্ট আর রিলসের ভিড়ে। মোবাইল স্ক্রিনের এই মোহ তরুণ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে এক অদৃশ্য বন্দিদশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য বড় এক হুমকির সংকেত।
ডিজিটাল আসক্তি: একটি নিরব মহামারী বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন ডিজিটাল আসক্তিকে এক ধরনের মানসিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রোলিং মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক রাসায়নিকের ক্ষরণ ঘটায়, যা সাময়িক আনন্দ দেয়। ফলে মানুষ বারবার সেই স্ক্রিনে ফিরে যায়।
বিশেষ করে শিশু ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে এই আসক্তি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব, অনিদ্রা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা এবং অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাস্তব পৃথিবীর সম্পর্কগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডলিস্টের আড়ালে।