হিজলা-হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও ৫০০ মিটার সেতু নির্মাণের দাবি
ভোলা জেলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে প্রস্তাবিত ভোলা-মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-মুলাদী-বরিশাল সড়কপথ বাস্তবায়নের উদ্যোগকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কপথের হিজলা থেকে হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরহাট পর্যন্ত বিদ্যমান প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং প্রায় ৫০০ মিটার সেতু নির্মাণ করা হলে ভোলা, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জসহ বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, প্রস্তাবিত এ যোগাযোগপথ বাস্তবায়িত হলে ভোলা থেকে গোসাইরহাট হয়ে শরীয়তপুর এবং পদ্মা সেতু অতিক্রম করে সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতের একটি দ্রুত ও স্বল্পব্যয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে। এতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত দেশের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মাত্র ১৫ কিলোমিটার সড়ক ও ৫০০ মিটার সেতুই বদলে দিতে পারে যোগাযোগচিত্র
প্রস্তাবিত রুটের হিজলা থেকে হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরহাট পর্যন্ত বিদ্যমান প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে প্রায় ৫০০ মিটার সেতু নির্মাণ করা গেলে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নদী ও নৌপথনির্ভর যোগাযোগের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। প্রস্তাবিত সড়কপথ চালু হলে এই নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে এবং সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
পদ্মা সেতুর সঙ্গে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চলের নতুন করিডোর
হিজলা-হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরাট পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে তা শরীয়তপুর ও পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভোলা ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানীমুখী একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোরে পরিণত হতে পারে।
এতে ভোলা থেকে ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত মাছ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রাজধানীর বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে
এই সড়কপথের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি পারাপার এবং ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত মেঘনা সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাঁদপুরসহ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।
ফলে একদিকে ভোলা ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যেমন স্বল্প সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে পারবেন, অন্যদিকে চাঁদপুর ও পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা পাবেন।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গেও তৈরি হবে নতুন সংযোগ
শরীয়তপুর-মাদারীপুর হয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত সড়কপথটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজারে সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় কমলে পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও বাড়বে।
গতি পাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
যোগাযোগ অবকাঠামো একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রস্তাবিত সড়কপথ বাস্তবায়িত হলে নতুন বাজার, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বাড়তে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগও।
স্থানীয়দের মতে, এ যোগাযোগপথ বাস্তবায়ন শুধু ভোলা বা হিজলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করবে না; বরং দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের মধ্যাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
সরকারের প্রতি দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের আহ্বান
স্থানীয় জনগণের দাবি, ভোলা জেলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে যুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হিজলা থেকে হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরহাট পর্যন্ত সড়কপথের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হোক।
প্রথম ধাপে বিদ্যমান প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ, সড়কের টেকসই উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংযোগপথগুলোর উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা, অর্থনৈতিক সুফল ও ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, ভোলা-মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-মুলাদী-বরিশাল এবং হিজলা-গোসাইরহাট হয়ে শরীয়তপুর-পদ্মা সেতু সংযোগের সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সরকার একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের মতে, হিজলা থেকে হরিনাথপুর-বদরপুর-আবুপুর হয়ে গোসাইরহাট পর্যন্ত মাত্র ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও ৫০০ মিটার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়ে যাতায়াতের নতুন দ্বার খুলে যাবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ হওয়ায় দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতিও আরও বেগবান হতে পারে।