১৭মে ১৯৮১, ভারতে প্রায় ছয় বছর নির্বাসন জীবন কাটানোর পর রাষ্ট্রপতি জিয়া সরকারের নির্দেশে দেশে ফেরার যোগাযোগ হয়। প্রথমে শেখ হাসিনা শঙ্কা প্রকাশ করে আমি দেশে ফিরলে আমাকে হত্যা করা হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়া ফিরতি বার্তায় বলেন আমি যে নিরাপত্তা পাই, সেই একই নিরাপত্তা শেখ হাসিনাকেও দেওয়া হবে। ১৭ ই ফেব্রুয়ারি ১৯৮১, তথ্যমন্ত্রী শামসুল হুদা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান শেখ হাসিনা দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ফিরতে পারবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন ২১শে মে ১৯৮১ গোপালগঞ্জের ঈদগা ময়দানে তিনি ঘোষণা করেন আমার পিতার অসমাপ্ত কাজ, দ্বিতীয় বিপ্লব ও বাকশাল আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব , নয়াদিল্লি থেকে ঢাকা ফিরার আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রয়োজন হলে আমি ভারতের কাছ থেকে সাহায্য নেব। ২৯ শে মে সিলেটের জনসভায় তিনি আবারও ঘোষণা করেন, বাকশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব, এসব বক্তব্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন শুধু আওয়ামী লীগকেই নয় বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাবে।
তাই বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকে শক্তিশালী করে বাকশালী আদর্শ বাস্তবায়নের কৌশলীদের শিকড় উপড়ে ফেলার বিকল্প নাই বলে আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যে উদারতার পরিচয় দিয়ে শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে সক্রিয় করেছিলেন তার বিনিময়ে ভারতের সহযোগিতায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে শেখ হাসিনার দিকেই যায় নিঃসন্দেহে।
অতএব দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগকে এবং আওয়ামী পরিবারের লোকদের বিশ্বাস করা মানে বিএনপির জন্য ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরেকটি মহাবিপদ ডেকে আনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না,
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী -কে বিনয়ের সঙ্গে স্মরণ করে দিয়ে বলতে চাই, ৫২-৬৯,৭১এর রাজনৈতিক শ্রদ্ধাবোধ অভিজ্ঞতা প্রায় বিলীন হওয়ার পথে, তা ফিরিয়ে আনতে হলে ন্যূনতম রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকা ব্যক্তিদের সামনের কাতারে নিয়ে আসা, নতুন প্রজন্মের অহংকার মানবতার ফেরিওয়ালা দেশপূর্ণ গঠনের রূপকার তারেক রহমানকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, ইসরাইল এর যুদ্ধ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করা যেমন একটি গোষ্ঠীর কৌশল ঠিক তেমনি বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিচ্ছিন্ন করার একটা কৌশলও বলে মনে করছি।
যে শাসক দাম্ভিকতা,ক্ষমতার লোভ, খুন গুম মানুষ হত্যার মত ঘৃণিত জঘন্যপথ বেছে নেয় তার করুন পরিণীতির জন্য সে নিজে দায়ী, অপরাধীর জন্য অনুশোচনা করা মানে তাকে সমর্থন করার শামিল বলে মনে করছি, ইতিহাস কখনো কাউকে ক্ষমা করে না সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন করেছিল শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ, কিন্তু তাকে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার করেন নাই জেলেও নেন নাই,
লগি বৈঠার মানুষ হত্যার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে ওয়ান এলেভেন সৃষ্টি হলো আওয়ামী লীগের কারণে সংযোতা করে ফখরুদ্দিন মইনুদ্দিনের থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করে,২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের নামে কৌশলে একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতায় দেশের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার রাক্ষসী থাবায় দেশপ্রেমিক ৫৭ জন সেনা অফিসার কে হত্যা করা হয়।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণীত মিথ্যা মামলায় মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা রাজিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলো, মিথ্যা মামলার সাজা পাঁচ বছরের পরিবর্তে দশ বছর করে রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে সর্বশেষ মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে যারা তাদের রাজনীতি করার অধিকার আছে কিনা সেই বিচারের ভার সকল দেশ প্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও জনগণের উপর ছেড়ে দিলাম।
ছোট ভাইয়ের লাশের কফিনের মধ্যে মায়ের চোখের জল, বড় ভাই জানাযায় অংশ নিতে পারল না, কবরে মাটি দিতে পারল না, এর চেয়ে বড় নিষ্ঠুরতা আর কি হতে পারে, তবুও বলবো ক্ষমাশীল- কে আল্লাহ পছন্দ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পথেই হাঁটছেন, প্রতিশোধ নিতে চান না, নতুন করে জনগণকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত রক্তে ভেজা রাজপথ, সারি সারি লাশ কাঁধে নিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার যেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েও সাধারণ মানুষের সাথে সাদাসিদে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন।
তার পূর্ণতা পাবে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একসাথে পথ চলা।
অতি উৎসাহী সুবিধাভোগীদের সঙ্গ ত্যাগ করা, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সুশাসক জনগণের প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসে নতুন আরেকটি নাম যোগ হবে তারেক রহমান মানেই বাংলাদেশ নতুন বাংলাদেশের নির্মাতার বাণী সবার আগে বাংলাদেশ। আল্লাহ সহায়।