রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দাওকান্দি সরকারি হাট নানা কারণে আজ ধংসের কবলে। অবৈধ স্থাপনায় অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
দাওকান্দি হাটের ভৌগলিক অবস্থান- চার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র। ০.৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে দেশের অন্যতম শিল্প কারখানা নাবিল গ্রুপ। বারানয় নদীর মোহনায় অবস্থিত এই হাট। উত্তরে মোহনপুর, উত্তর পূর্বে বাগমারা, পশ্চিমে পবা এবং দক্ষিণে দুর্গাপুর উপজেলা। প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এখানে রয়েছে সরকারি কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল পরিক্ষা কেন্দ্র।
অত্র এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল পান। ৪ উপজেলার প্রায় ৫০ টি গ্রামের পান চাষীদের পান বিক্রির নির্ভর যোগ্য হাট দাওকান্দি। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন পান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাটের ১ একর জমি থাকলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তা দখল করে গড়ে তুলেছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা। ফলে হাট বসে উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজেস্ব জমিতে ও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। অথচ এই মাঠে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করতেন স্কুল কতৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা। এতে বিনষ্ট হচ্ছে খেলাধুলার পরিবেশ, খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী ও ক্রীড়া প্রেমী যুব সমাজ। ফলে তারা আসক্ত হচ্ছে মোবাইল এবং মাদকের প্রতি। যা স্থানীয় ভাবে কাম্য নয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “আ’লীগ সরকারের শাসনামলে আ’লীগের প্রভাবশালীরা হাটের জায়গা দখল করে বড়-বড় গোডাউন নির্মাণ করে নিয়েছে। ফলে জায়গা স্বল্পতার কারণে বাধ্য হয়ে হাট বসাতে হয় স্কুলের জমিতে ও মাঠে। সরকার বঞ্চিত হচ্ছেন অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজের দাবি, হাটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নতুন ভাবে সরকারি ভবন ও রাস্তা তৈরি করা হলে ঐতিহ্যবাহী রক্ষা করা যাবে। সেই সাথে সরকারের রাজস্ব আদায় ও ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয়রা তাদের খেলার মাঠ ফিরে পাবে।
এই বিষয়ে কথা হয় লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তিনি বলেন, “সরকারের সম্পত্তি দখল মুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে, সঠিক নিয়মে, আইন মেনে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। আমাদের উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিকে শক্তিশালী করা।”