সাবেক স্বৈরাচার সরকারের প্রটোকল ডিউটি পুলিশ সদস্য মুজিবর।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত আছেন। পুলিশ সদস্যে ও পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও অমানবিকতার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্বামী জার্মানি প্রবাসী হওয়া সত্ত্বেও তার নির্দেশ অমান্য করে বৃদ্ধ শাশুড়িকে বাসায় প্রবেশ করতে দেননি তার স্ত্রী ও তারপুলিশ সদস্য শশুর মজিবর রহমান। ক্ষমতার অহংকার দেখিয়ে পুত্রবধূ নিজের বাবার প্রভাব খাটিয়ে বয়োবৃদ্ধ মাকে দীর্ঘক্ষণ গেটে বসিয়ে রাখেন এবং ফ্ল্যাটটি জিম্মি করে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দাখিল করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আটিয়াপাড়ার সাধারণ নাগরিক মো: সিরাজুল ইসলামও জার্মান প্রবাসী শামীম এর মালিকানাধীন ও দখলীয় ফ্ল্যাটটি (যা ঢাকার খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া সবুজ পল্লী এলাকায় অবস্থিত) জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মজিবর ও তার পরিবার।
স্বামীর নির্দেশ উপেক্ষা ও মায়ের প্রতি অমানবিকতা ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জার্মানি প্রবাসী ছেলে ফোন করে তার বৃদ্ধ মাকে বাসায় উঠতে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও তার স্ত্রী ও তার শশুর পুলিশ সদস্য মুজিবর রহমান সেই কথা তোয়াক্কা করেননি। উল্টো পুত্রবধূ তার বাবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের শাশুড়িকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন এবং গেটেই আটকে রাখেন। প্রশ্ন উঠেছে—পুত্রবধূ যদি ওই ফ্ল্যাটে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন, তবে একজন জন্মদাত্রী মা কেন নিজের ছেলের ফ্ল্যাটে আশ্রয় পাবেন না? পুত্রবধূর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অমানবিক আচরণে চারপাশের লোকজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো: সিরাজুল ইসলাম আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও তার পরিবার নিজেদের সরকারি চাকরি ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার বৈধ সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। তাদের এহেন আচরণে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষমতার এমন নগ্ন অপব্যবহার ও নিজ পরিবারের বয়োবৃদ্ধ মায়ের প্রতি এমন অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের সম্পত্তির অধিকার, জানমালের নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী। একইসঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।