রাজশাহীর বাঘায় কৌশলে চাবি নিয়ে এক প্রতিবন্ধী ও এতিম অটোরিকশাচালকের পুরোনো অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মিশন আলী (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতের আইনগত নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মিশন আলী বাঘা উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—সোহাগ (২৮) ও স্বাধীন (২২)।
ভুক্তভোগী মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ (২০) চারঘাট উপজেলার রাউথা (মীরগঞ্জ) এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একজন এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট বিকেলে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে চারঘাট থানার হাজির ডালান এলাকায় অবস্থান করছিলেন শরিফুল। পরে যাত্রী নিয়ে রিজার্ভ ভাড়ায় বাঘা বাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাঘা বাজারের রওশনআরা হোটেলের সামনে পৌঁছালে মিশন আলী, সোহাগ ও স্বাধীনের সঙ্গে তার দেখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওই তিনজন কৌশলে শরিফুলের কাছ থেকে অটোরিকশার চাবি নিয়ে নিজেরাই গাড়িটি চালাতে শুরু করেন।
পরে অটোরিকশাটি বাঘা থানার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের পেছনে মান্নানের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অটোরিকশাটি মেরামত করার কথা বলে শরিফুলকে বাঘা মাজার গেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে রেখে আসা হয়। এরপর অভিযুক্তরা অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে শরিফুল মান্নানের গ্যারেজে গিয়ে অটোরিকশার খোঁজ করলে গ্যারেজ মালিক জানান, অটোরিকশাটি নিয়ে আসা ব্যক্তি সেটি আবার নিয়ে চলে গেছেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অটোরিকশাটির সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শরিফুল।
অভিযোগে চুরি যাওয়া অটোরিকশাটির আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেরাজুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মিশন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
বাঘা থানার ওসি মো. সেরাজুল হক বলেন, “চুরি হওয়া অটোরিকশাটির প্রকৃত মালিক একজন প্রতিবন্ধী ও এতিম ছেলে। অটোরিকশাটি উদ্ধারসহ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটি প্রকৃত মালিক শরিফুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।