নীলফামারীর জলঢাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই দিনে তিন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়টি জানেন না উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। প্রধান শিক্ষক ওই তিন শিক্ষকের ছুটির কথা স্বীকার করলেও তাদের লিখিত ছুটির আবেদন দেখাতে পারেননি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনাচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মোট নয়জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন অনুপস্থিত। উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের কাজে উপজেলা সদরে গেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক আব্দুল আজিজ, কৃষি বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান ও অফিস সহকারী আব্দুস সালাম পারিবারিক মামলার কারণে নীলফামারীতে গেছেন বলে জানান তিনি।
তাদের ছুটি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানেন।
পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসমাইল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই তিনজন শিক্ষক মামলার তারিখ থাকায় ছুটি নিয়েছেন। ছুটির বিষয়টি মৌখিক নাকি লিখিত-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মৌখিক কোনো ছুটি হয় নাকি।”
তবে তাদের লিখিত ছুটির আবেদন দেখতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন এবং বিএসসি শিক্ষককে আবেদন দেখানোর জন্য বলে দিচ্ছেন।
পরবর্তীতে বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছে লিখিত ছুটির আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের অফিসে ওই তিন শিক্ষকের কোনো লিখিত ছুটির আবেদন নেই। আবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে নানা কারণে অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। তাদের দাবি, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের এলাকায় এটিই একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমছে।”স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে ২৫ জন। এ ফলাফল নিয়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। প্রধান শিক্ষক এসমাইল হোসেন অনুপস্থিত তিন শিক্ষক ছুটি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের ছুটির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। একই দিনে তিন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি দেখছি, আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষকদের উপস্থিতি, ছুটির আবেদন এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।