সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের লামা ডিস্কি বাড়ি থেকে ফেদারগাঁও পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। সড়কটির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে লামা ডিস্কি বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেদারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘল বাকের পাড় ও ফেদারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, দিঘল বাঘের পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাকুরাইল দাখিল মাদ্রাসা, বেকি মুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মনুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
এ বিষয়ে লামা ডিস্কি বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম, ফেদারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সীমা আক্তার, এবং দিঘল বাক ও ফেদারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুস্মিতা রায় ও সরস্বতী রায় বলেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সড়কটি উঁচু করে মাটি ভরাট, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং স্থায়ীভাবে পাকাকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. চান মিয়া বলেন, “এত দীর্ঘ একটি সড়কের কোথাও এখনো পাকা করা হয়নি। প্রতিবছর কিছু সংস্কারকাজ হলেও বর্ষায় তা আবার নষ্ট হয়ে যায়। সর্বশেষ নির্বাচনের সময় বর্তমান মন্ত্রী মহোদয় সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে যেহেতু সড়ক নির্মাণ সম্ভব নয়, তাই অন্তত জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা স্পিডবোট অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরিন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রাস্তার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা স্পিডবোট সেবা চালু করা ব্যয়বহুল বিষয়। তবুও রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”
দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার এবং বর্ষাকালে বিকল্প জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।