“দেশের বায়ুকে সুন্দর করি, গাছ লাগিয়ে পরিবেশ গড়বো খাঁটি” এবং “সুস্থ থাকি, দেশটাকে পরিষ্কার রাখি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি”—এই প্রত্যয় নিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় রত্নদিশারী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলার রত্নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে রত্নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় চারাগাছগুলো রোপণ করা হয়।
অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘রত্নদিশারী ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি মোঃ সাকিবুল ইসলাম সাইফুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ সবুজ, মোঃ দিপু ও মোঃ শাহজালাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রত্নপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকমণ্ডলী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি সোহান মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সজল এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলিমুল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের প্রতি যত্নশীল হওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। রত্নদিশারী ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা গাছ রোপণ ও তার সঠিক পরিচর্যার ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন:
সঠিক চারা নির্বাচন ও রোপণ: স্থান বিবেচনা করে ফলজ ও বনজ চারা নির্বাচন করতে হবে। রোপণের সময় চারার গোড়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগ: চারা রোপণের পরপরই গোড়ায় পানি দিতে হবে। রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার করে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়।
সুরক্ষা ব্যবস্থা: গবাদিপশুর হাত থেকে কচি চারাগাছ রক্ষা করতে বাঁশের খাঁচা বা বেড়া দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ: প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত দুটি করে গাছ লাগিয়ে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা করার অঙ্গীকার করানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে রত্নদিশারী ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও একটি সবুজ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে তাদের এই ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।