শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “বিতর্ক উৎসব ২০২৬”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৫ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন সরফ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়হান কবির। উৎসবের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং যুক্তি, বিশ্লেষণ, উপস্থাপন দক্ষতা ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্ভাবনী আয়োজন এবারের বিতর্ক উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য সমসাময়িক ও বাস্তবধর্মী বিষয় নির্বাচন, আন্তঃশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ, তাৎক্ষণিক বিতর্ক পর্ব, পাবলিক স্পিকিং, যুক্তি উপস্থাপন কর্মশালা এবং বিচারকদের সরাসরি মূল্যায়ন ও পরামর্শ প্রদান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, বরং নিজেদের চিন্তা ও মতামতকে তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপনের দক্ষতাও অর্জন করবে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী এই উৎসবে অংশগ্রহণ করছে। বিতর্কের বিষয়গুলোতে শিক্ষা, পরিবেশ, প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন, তরুণ নেতৃত্ব এবং জাতীয় অগ্রগতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার সরফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করে। আগামী দিনের দক্ষ, সচেতন ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিতর্ক একটি কার্যকর মাধ্যম। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নতুন প্রজন্মকে গঠনমূলক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করবে।
পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্ব বিকাশে বিতর্ক উৎসবকে একটি নিয়মিত ও বৃহৎ পরিসরের আয়োজনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে যুক্তি, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।