নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় সাড়ে চার বছর পর আগামীকাল বুধবার রংপুরে যাচ্ছেন। এই উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন স্থান আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান ওরফে রাঙ্গা আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে রংপুরে। তবে মসিউর দাবি করেছেন, দলবদলের বিষয়টি সত্য নয়।
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি একমাত্র মসিউর রহমানের পক্ষ থেকে ছবিসংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। পোস্টারের ডান পাশের ওপরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। বাঁ পাশের ওপরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের ছবি। নিচের বাঁ দিকে মসিউর রহমানের ছবি।
চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার রংপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১০ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশে তিনি সাতাশটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারসহ আরও পাঁচটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি রংপুর বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী রংপুর বিভাগীয় সদর দফতরে আসছেন এ খবরে পুরো রংপুর উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও পোস্টারে সাজানো হয়েছে পুরো রংপুর।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চলছে নানা প্রস্তুতি। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম বলেন, আগামী ২ আগস্ট তাদের ভাগ্যনির্মাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে সর্বস্তরের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
মহাসমাবেশে দশ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বাসসকে বলেন, আগামী ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর রংপুর আগমন উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা। এ লক্ষ্যে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসমাবেশ সফল হবে এবং রংপুরের জনগণ খুশি হবে কারণ প্রধানমন্ত্রী ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং পাঁচটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।