ময়মনসিংহের সীমান্তঘেঁষা হালুয়াঘাট উপজেলায় একসময় বিকেল হলেই গ্রামীণ মাঠগুলোতে জমে উঠত ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলা। গাঁয়ের দামাল যুবকেরা কসরত আর শক্তিমত্তার জানান দিতে মেতে উঠত এই লড়াইয়ে, যা দেখতে ভিড় জমাতেন সব বয়সের মানুষ। অথচ কালের আবর্তে সেই বিনোদনের দৃশ্য এখন আর চোখেই পড়ে না। সীমান্ত জনপদের ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামীণ খেলাটি আজ বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও সচেতন নাগরিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও বিনোদনের বড় একটি অংশ ছিল কুস্তি। কিন্তু বর্তমানে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই নিজস্ব ঐতিহ্য।
এর পেছনে প্রধান কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন এলাকার বাসিন্দারা:
ডিজিটাল আসক্তি: বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা খেলাধুলার চেয়ে মোবাইল ফোনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। অনলাইন গেমস ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটাতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
মাদকের বিস্তার: সীমান্ত এলাকা হওয়ায় খুব সহজেই তরুণদের একাংশ মাদকের করাল গ্রাসে পতিত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
খেলার মাঠের অভাব: একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ ছিল, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে নতুন প্রজন্ম খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাগুলো আবার ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। মাঠের ব্যবস্থা করা, তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সীমান্তে মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন ও স্থানীয় অভিভাবকদের একযোগে কাজ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।